উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের দিল্লির রাজপথে এক অন্যরকম দৃশ্য। পরনে সাদা শাড়ি থাকলেও কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত ঢেকেছে কালো চাদর। সঙ্গী দলীয় সাংসদ ও নেতা ও এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যদের গায়েও একই চাদরের আবরণ। সব মিলিয়ে ১৫ জনের দল নিয়ে কমিশনের দপ্তরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনই প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে (Nirvachan Sadan) পৌঁছলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইস্যু— ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)।
কেন এই কালো চাদরের রাজনীতি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালো চাদর এখানে স্রেফ পোশাক নয়, বরং প্রতিবাদের প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, বাংলায় এই SIR প্রক্রিয়ার নামে কার্যত ভোটার ছাঁটাইয়ের খেলা চলছে। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে ইতিমধ্যে রাজ্যে ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এনআরসি (NRC) আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এনিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা ৬টি চিঠির কোনো সদুত্তর না পেয়ে এবার নিজেই সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের পারদকে আরও চড়িয়ে দিল। মমতার অভিযোগ, বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনে ‘ভুল পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা হচ্ছে এছাড়াও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত অব্যবস্থা চলছে, যার বলি হচ্ছেন নিচু তলার কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। কালো চাদরের এই প্রতিবাদ নির্বাচন কমিশনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির এক কৌশল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

