উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এখন রাজনৈতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে একটিই প্রশ্ন— বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন? বর্তমান রাষ্ট্রপতি (Bangladesh President) মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের (Mohammad Shahabuddin) মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) কি বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন? নাকি বিএনপির কোনো বর্ষীয়ান নেতাকে এই আলঙ্কারিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাবে?
ক্ষমতার ভারসাম্য বনাম ইউনূস ফ্যাক্টর
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি এখন নতুন সমীকরণের সামনে। ড. ইউনূস ১৬ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তারেক রহমান ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির পদে মনোনীত করতে পারেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, ‘জুলাই চার্টার’-এর (July Charter referendum) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির যে প্রস্তাব রয়েছে, তাতে কি তারেক রহমান নিজের সমান্তরাল কোনো শক্তি কেন্দ্র তৈরি করতে চাইবেন?
সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় যারা
বিএনপির অন্দরে রাষ্ট্রপতির পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় অনুগত কাউকে রাষ্ট্রপতি করলে সরকারের নীতিনির্ধারণে তারেক রহমানের একক আধিপত্য বজায় রাখা সহজ হবে। অন্যদিকে, ইউনূসের ঘনিষ্ঠ খলিলুর রহমান ইতিমধ্যে বিএনপির মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন, যা ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির এক ধরণের সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।
জুলাই চার্টার ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা
এবারের নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদিত হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধানদের নিয়োগ দিতে পারবেন। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন মামলা থেকে আইনি সুরক্ষা পেতে রাষ্ট্রপতির পদের ‘ইমিউনিটি’ বা দায়মুক্তি তার জন্য একটি বড় ঢাল হতে পারে। বঙ্গভবনের লড়াই এখন কেবল ব্যক্তির নয়, বরং বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামো বনাম শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থার এক অদৃশ্য দ্বন্দ্বের রূপ নিয়েছে।

