উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে কি এক নতুন মেরুকরণ শুরু হলো? ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী অবস্থানে একজোট হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তান (Bangladesh Pakistan Cricket Boycott)। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সরাসরি বিমান চলাচল এবং বাণিজ্যে গতির পর এবার ক্রিকেটের মাঠেও ‘দিল্লি’কে চাপে ফেলতে কৌশল সাজাল দুই প্রতিবেশী।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। ‘নিরাপত্তা’-র দোহাই (Security concerns) দিয়ে ভারতে খেলতে অস্বীকার করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসি অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়। আর এই ইস্যুতেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। কলম্বোতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার ডাক দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার ফেসবুকে সগর্বে লিখেছেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, পাকিস্তান’। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়েই পাকিস্তান এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসিফ নজরুল বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল বদল এসেছে। ১৯৭১-এর তিক্ততা সরিয়ে রেখে ঢাকার বর্তমান প্রশাসন ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে মরিয়া।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই ‘সংহতি’ কি নেহাতই ভ্রাতৃত্ব, নাকি ভারতের বিরুদ্ধে এক রাজনৈতিক চাল? শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, ‘খেলার মাঠে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়’ অথচ তাঁর নিজের দেশই রাজনৈতিক কারণেই ম্যাচ বয়কটের পথ বেছে নিয়েছে। মজার বিষয় হলো, বিসিবি যখন ভারতকে ‘অনিরাপদ’ তকমা দিয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের শুটাররা দিল্লিতে এশিয়ান শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ছাড়পত্র পেয়েছে।
সীমান্ত উত্তেজনা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের শীতলতার মাঝে এই ক্রিকেট-কূটনীতি নতুন মাত্রা যোগ করল। আকাশপথ থেকে সমুদ্রপথ, আর এবার সবুজ গালিচায়—বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই ক্রমবর্ধমান ‘মৈত্রী’ দিল্লির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

