অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: করের টাকা দিতে না পারলে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে! এমনই হুমকি পেয়ে পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে বাড়ি-ঘর-দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। বাংলাদেশে (Bangladesh) প্রতিনিয়ত অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ভারতে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেও শেষ রক্ষা হলো না। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার (Arrest) হতে হল কোলের শিশু সহ এক দম্পতিকে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়নাগুড়ি ব্লকের ভোটপাট্টি এলাকায়। ধৃত দম্পতির নাম মনোরঞ্জন রায়, আদুরি রানী রায়।
বুধবার ময়নাগুড়ি (Mainaguri) থানায় কান্নায় ভেঙে পড়েন এই দম্পতি৷ মনোরঞ্জন পেশায় রঙ মিস্ত্রীর কাজ করেন। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার পর থেকে তাঁদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা তীব্র আকার ধারন করেছে বলে অভিযোগ। গ্রামের বহু মানুষের বাড়িঘড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কাজকর্ম থেকেও বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক মানুষকে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে গ্রামের মুরুব্বি মাতব্বরদের মোটা টাকা ট্যাক্স দিতে হত। মনোরঞ্জন এদিন বলেন, ‘ট্যাক্স দিতে না পারলে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাবার ফতোয়া জারি হয়েছিল৷ সেই ভয়ে কোলের বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে এসেছি।’
জানা গেছে, মনোরঞ্জনদের বাড়ি বাংলাদেশের নিলফামাড়ি উপজেলায়। মঙ্গলবার বাংলাদেশের লালমনিহাট লাগোয়া সীমান্ত দিয়ে দালালকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক জামা-কাপড়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ময়নাগুড়ি ভোটপাট্টি সংলগ্ন এলাকায় এসে হাজির হন তারা৷ ভোটপাট্টি থেকে জলপাইগুড়িতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাবার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু এলাকার মানুষদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ময়নাগুড়ি ভোটপাট্টি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে।
আদুরীর বক্তব্য, ‘আমরা অত্যাচারিত। কোনও রকমে দেশে থেকে পালিয়ে এদেশে এসেছি।’ অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘তিনজন বাংলাদেশীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

