অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: কোথাও ঝুলছে শারদীয়া, দীপাবলি এবং ছটপুজোর শুভেচ্ছাবার্তা, আবার কোথাও টাঙানো রয়েছে মেয়াদ পেরোনো বিজ্ঞাপনের ফ্লেক্স। জলপাইগুড়ি শহরের (Jalpaiguri) বিভিন্ন বাজার থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়, সব জায়গাতেই এই ধরনের ফ্লেক্স-ফেস্টুন ভর্তি। অনেক জায়গাতেই আবার বহুদিন আগের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির বিভিন্ন ব্যানারও রয়ে গিয়েছে। এদিকে বারবার শহরকে পরিষ্কার রাখার কথা বলা হলেও, অবাঞ্ছিত ফ্লেক্স-ফেস্টুন-ব্যানারে ক্রমশ শহরের মুখ ঢাকছে। সঙ্গে দৃশ্য দূষণ তো রয়েছেই। এবিষয়ে পুরসভার নজর নেই বলেই অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার তরফে এইসব ফ্লেক্স-ফেস্টুন খুলে ফেলার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন এধরনের কোনও উদ্যোগই নেয়নি পুর কর্তৃপক্ষ। যদিও এবিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘দৃশ্য দূষণ রুখতে বদ্ধপরিকর পুরসভা। এনিয়ে সোমবার থেকে অভিযান চালানো হবে। রাজনৈতিক দলগুলি আগামী দু’দিনের মধ্যে তাদের ফ্লেক্স না খুললে পুরসভা সেগুলি সরিয়ে দেবে।’
জানা গিয়েছে, শহর সাজাতে তৎপর পুরসভা। ইতিমধ্যেই যানজট এড়াতে শহরে পার্কিং জোনের জায়গা খুঁজতে সমীক্ষা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। একইভাবে বিভিন্ন রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া কেবল টিভি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া সংস্থাগুলির অপটিক ফাইবার সরিয়ে নিতে অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যত্রতত্র রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া তারও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একদিকে শহরকে পরিষ্কার রাখতে জোর গলায় চিৎকার করা হলেও বিভিন্ন এলাকায় থাকা হোর্ডিংগুলির দিকে কারও নজর নেই। সমাজপাড়ার বাসিন্দা ও শিক্ষক বিশ্বজিৎ চৌধুরীর কথায়, ‘শহরকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের। অথচ আমরা নিজেরাই সেই দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করি না। কাজ হয়ে গেলে যদি এইসব ফ্লেক্স-ফেস্টুন খুলে নেওয়া হয়, তাহলেই শহর অনেক পরিষ্কার দেখাবে।’
পুজোর মরশুম প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়ে গিয়েছে। পুজোর আগে থেকেই নেতা-মন্ত্রীরা শহরবাসীকে শুভেচ্ছাবার্তা জানাতে শহরজুড়ে নানা পোস্টার লাগিয়েছিলেন। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং জনবহুল এলাকাগুলিকে ফ্লেক্স লাগানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। কদমতলা মোড়, বেগুনটারি, থানা মোড়, দিনবাজার সর্বত্র একই ছবি। অন্যদিকে, শহরের ব্যবসায়ী এবং শপিং মলগুলির একাংশ নিজেদের প্রচারের স্বার্থে বা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেও রাস্তার মোড়ে ফ্লেক্স টাঙিয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়েই পুরসভার অনুমতি থাকে না। রং ওঠা বা রোদে জ্বলে যাওয়া হোর্ডিংগুলি দিনের পর দিন শহরে বিভিন্ন মোড়ে ঝুলছে। এমন অবস্থায় বিরক্ত রায়কতপাড়ার আরেক বাসিন্দা অমিত সরকার। তাঁর মতে, ‘পুরসভার এব্যাপারে যতটা কড়া হওয়া উচিত, সেই মতো কেউ কাজই করছে না। যাঁরা এভাবে ফ্লেক্স-ব্যানার লাগিয়ে শহর নোংরা করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে পুরসভাকেই পদক্ষেপ করতে হবে।’

