শিলিগুড়ি: বিশ্বমঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হল দার্জিলিংয়ের নাম (Darjeeling)। বিপন্ন ‘হিমালয়ান স্যালামান্ডার’ (Himalayan Salamander) এবং পূর্ব হিমালয়ের জলাভূমি রক্ষার জন্য পুরস্কৃত হলেন পাহাড়কন্যা বরখা সুব্বা। পরিবেশ সংরক্ষণে অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ‘হিটলি অ্যাওয়ার্ড’ বা ‘গ্রিন অস্কার’-এ সম্মানিত করা হয়েছে তাঁকে (Green Oscar)। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৫০ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা) অনুদানও দেওয়া হয়েছে। যা তাঁর চলমান সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত হবে।
প্রতিবছর ইউনাইটেড কিংডম স্বীকৃত ‘হুইটলি ফান্ড ফর নেচার’-এর তরফে এই সম্মান দেওয়া হয়। চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ২৭০ জন এর জন্য আবেদন করেছিলেন। তারমধ্যে থেকে মাত্র ১২ জনকে বেছে নেওয়া হয়। পরে সাতজনকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছেন বরখাও। এছাড়াও দেশের আরও এক প্রতিনিধি পারভিন শেখ এই সম্মান পেয়েছেন।


বরখা দার্জিলিংয়ের এনজিও ‘ফেডারেশন অফ সোসাইটিজ ফর এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন’-এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসাবে কর্মরত। ‘সারভাইভার অফ আ লস্ট ওয়ার্ল্ড : সেভিং দ্য হিমালয়ান স্যালামান্ডার অ্যান্ড ইটস ওয়েটল্যান্ডস’- প্রকল্পে কাজ করেছেন তিনি। মূলত দার্জিলিং পাহাড়ে স্যালামান্ডারের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজননকেন্দ্রকে রক্ষা করতেই তাঁর এই প্রকল্প। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্গারেট হোপ, নাখাপানি, নামথিং বায়োডাইভারসিটি হেরিটেজ সাইট, মজিধুরা ও পোখরিয়াবংয়ের নির্দিষ্ট এলাকা, মিরিকের কিছু জলাভূমি।
আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বসিত বরখা লন্ডন থেকে ফোনে জানালেন, বর্তমানে আইইউসিএন-এর তালিকায় স্যালামান্ডার বিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। তবে অনেক আগে থেকেই স্থানীয় মানুষজন এই প্রাণীটিকে রক্ষা করে আসছেন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে এই জলাভূমিগুলি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর কথায়, ‘এই পুরস্কার হিমালয়ান স্যালামান্ডার এবং তাদের ভঙ্গুর আবাসস্থল রক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এটা সত্যিই আনন্দের।’
পাহাড়কন্যা বরখার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে খুশির হাওয়া পাহাড়জুড়ে। রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বরখাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রিংলা বলেন, ‘আমি আগে থেকেই ওঁর কাজ সম্পর্কে জানি। এই পুরস্কারের জন্য আমরা গর্বিত। স্যালামান্ডার সংরক্ষণ নিয়ে ভালো কাজ করছেন।’
আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, হিমালয়ান স্যালামান্ডার বর্তমানে একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। দার্জিলিং পাহাড়ে এদের কমবেশি ৩০টি প্রজননক্ষেত্র অবশিষ্ট রয়েছে। বরখা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে একটি আন্তঃসীমান্ত জলাভূমি সংরক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলতে চান।

