উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নাগরিকরা পুরপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন পরিষেবা এবং সুরক্ষার আশায়। কিন্তু সেই জনপ্রতিনিধিই যদি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠেন, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার মনিরামপুর এলাকায় রবিবার ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এই প্রশ্নই তুলে দিল। অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ৮১ বছরের এক বৃদ্ধকে আক্রোশের শিকার হতে হলো খোদ স্থানীয় কাউন্সিলরের। অভিযুক্ত কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে (Rabindranath Bhattacharya) ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ (Barrackpore Councilor Arrest)। অন্যদিকে, জনরোষ আঁচ করে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় তড়িঘড়ি অভিযুক্তকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিল শাসকদল।
ঘটনার সূত্রপাত একটি সামান্য অভিযোগকে কেন্দ্র করে। মনিরামপুরের বাসিন্দা তুলসীচরণ অধিকারি (Tulsi Charan Adhikari) প্রতিবেশীর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পুরসভায় চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু সুরাহা তো মেলেনি, উল্টে রবিবার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা পেশায় আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দলবল নিয়ে চড়াও হন বৃদ্ধের বাড়িতে। অভিযোগ, বচসার মাঝেই ৮১ বছরের ওই বৃদ্ধের পেটে সজোরে লাথি মারেন কাউন্সিলর। ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে ব্যারাকপুর। খবর পেয়েই সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে ছোটেন বিধায়ক পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik)। কিন্তু ততক্ষণে স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে। পরিস্থিতি সামাল দিতে (Damage Control) এবং দলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করতে বিধায়ক জানান, “দল এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এটি মর্মান্তিক এবং নিন্দনীয়। অভিযুক্তকে আগামী ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হলো।” তিনি আরও জানান, মৃত ব্যক্তি অত্যন্ত সজ্জন ছিলেন, তাঁর মৃত্যু হৃদরোগে না কি আঘাতের কারণে, তা ময়নাতদন্তেই স্পষ্ট হবে।
ব্যারাকপুর থানার পুলিশ প্রথমে কাউন্সিলরকে আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যুতে অভিযুক্ত খোদ নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ায়, পুরসভার ভূমিকা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ঘটনা শাসকদলের কাছে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

