উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (ICC T20 World Cup) ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান বজায় রাখল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। মঙ্গলবার বিকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-র সঙ্গে এক জরুরি ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা ভারতে দল পাঠাতে ইচ্ছুক নয়।
মঙ্গলবারের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক
বিসিবি-র পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিনের বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ এবং ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম সহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বিসিবি-র যুক্তি ও পাকিস্তানের উদাহরণ
বিসিবি-র দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক উত্তাপ এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তাঁদের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে কোনও নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া হোক। সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ‘হাইব্রিড মডেল’-এর উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণগুলি বড় ভূমিকা পালন করছে।
আইসিসি-র পাল্টাচাপ ও ক্রীড়া উপদেষ্টার মন্তব্য বিভ্রাট
বৈঠকে আইসিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তাই বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন যে আইসিসি তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছে, যা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ছড়ায়। পরবর্তীকালে বিসিবি একটি বিবৃতিতে জানায় যে, আইসিসি-র কাছ থেকে এমন কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি এবং আলোচনা এখনও চলছে।
বিবাদ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
বিসিসিআই (BCCI) ও বিসিবি-র মধ্যে এই সংঘাতের মূলে রয়েছে আইপিএল ২০২৬ থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তির আকস্মিক অবসান। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার খবরের জেরে ভারতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ফলে কেকেআর (KKR) মুস্তাফিজকে রিলিজ দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার সে দেশে আইপিএল-এর সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
সমাধান কোন পথে?
বিসিবি এবং আইসিসি উভয়েই আলোচনার ধারা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের সুরক্ষা তাঁদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এখন আইসিসি ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের জন্য কোনও বিকল্প পথ বের করে কি না, সেটাই দেখার।

