মুম্বই: বিশ্বের ধনীতম ক্রিকেট বোর্ড কোন দেশের? বলার জন্য কোনও পুরস্কার নেই। উত্তরটা ক্রিকেট সম্পর্কে উৎসাহ রাখা সবারই জানা। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। কিন্তু কতটা বিত্তশালী? আজ যে প্রশ্নের উত্তরে চক্ষু চড়কগাছ ক্রিকেট দুনিয়ার। বিসিআইয়ের বছরের আয়, জমা অর্থ, তার থেকে প্রাপ্য সুদের পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে ওঠাই স্বাভাবিক।
বোর্ডের জমা অর্থের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা! যার থেকেই সুদ বাবদ বছরে বোর্ডের ভাঁড়ারে আসে ১০০০ কোটি টাকা! চমকের এখানেই শেষ নয়। বছরে আয়ের পরিমাণও প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই। ২০২৩-’২৪ অর্থ বর্ষের হিসেবে বোর্ডের কোষাগারে ঢুকেছে ৯,৭১৪ কোটি টাকা।


চমকে দেওয়া এহেন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে রেডিফিউশন সংস্থার রিপোর্টে। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে গত আর্থিক বর্ষে বিসিসিআই আয়ের হিসেবনিকেশ। চমকের মূল কারণ সোনার ডিম দেওয়া হাঁস আইপিএল। ৯,৭৪১.৭ কোটির বার্ষিক আয়ের ৬০ শতাংশই আইপিএলের (৫,৭৬১ কোটি টাকা) হাত ধরে।
২০২৩-২০২৭, এই সময়ের জন্য আইপিএলের স্বত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ডিজনি ও ভায়াকমের কাছে ৫৩,৩১২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। যা আগের চুক্তির তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। স্পনসরশিপ বাবদ মোটা অঙ্ক আসছে। ভারতীয় ক্রিকেট যার স্পর্শে ধনী থেকে আরও ধনী।
বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট লয়েড ম্যাথিয়াস বলেছেন, ‘২০০৭ সালে আইপিএল নামক সোনার ডিম দেওয়া হাঁসের সন্ধান (মেগা লিগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়) পেয়েছিল বিসিসিআই। ক্রীড়া বিশ্বের অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য যেমন নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ তৈরি করছে আইপিএল, পাশাপাশি আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে বিসিসিআইকে।’
রেডিফিউশন সংস্থার কর্ণধার সন্দীপ গোয়েল বলেছেন, ‘রনজি ট্রফি, দলীপ ট্রফি, সিকে নাইডু ট্রফির মতো ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলি থেকেও আয়ের সুযোগ রয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল ৩০ হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ। বছরে সুদ থেকেই প্রাপ্তি হাজার কোটি টাকা। আর্থিকভাবে প্রতিবছরই শক্তিশালী হচ্ছে বিসিসিআই। আয় বাড়ছে প্রায় ১২ শতাংশ হারে।’
আইপিএল ছাড়া অন্যান্য মিডিয়া স্বত্ব বাবদ গত আর্থিক বছরে ৩৬১ কোটি টাকা আয় করেছে বোর্ড। মহিলা প্রিমিয়ার লিগও ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। আইসিসির লভ্যাংশ থেকে বিসিসিআই পেয়েছে ১,০৪২ কোটি টাকা। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আজিমন ফ্রান্সিসের মতে, ক্রিকেট বিশ্বের আয়ের মূল উৎস ভারত। আয়ের জন্য আইসিসি-ও ভারতের মুখাপেক্ষী।
এক ঝলকে
বার্ষিক আয় ৯,৭৪১.৭ কোটি টাকা
আইপিএল থেকেই শুধু আসে ৫,৭৬১ কোটি টাকা
আইসিসির থেকে প্রাপ্তি ১০৪২ কোটি টাকা
জমা অর্থের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা
জমা অর্থ থেকে বছরে সুদ ১০০০ কোটি টাকা

