উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর (SIR) শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। মালদার ফারাক্কার (Farakka) ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া। সেখানে বিডিও দপ্তরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় ইসলামপুর থানার আইসি-র।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এসআইআর (SIR) শুনানির নামে হয়রানির প্রতিবাদে এ দিন বিডিও অফিসের অদূরে কাহাটা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। সেই অবরোধ হটাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি শুরু করে। পুলিশকে কার্যত কোণঠাসা করে বিডিও অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দমকলের ইঞ্জিনকেও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ হওয়ায় এসআইআর সংক্রান্ত জরুরি ডেটা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন।
ঘটনার পরই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। পুলিশ ও বিডিও অফিসের ওপর এই ‘সংগঠিত হামলা’র ঘটনায় অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচনি আধিকারিক (DEO) তথা জেলাশাসককে দ্রুত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাদের স্পষ্ট বার্তা, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ থাকলে তা জানানোর নির্দিষ্ট মঞ্চ রয়েছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তলব করা হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট।
আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ নামানো হয়েছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। পরপর দুটি ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

