উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শরীরকে রোগমুক্ত ও চনমনে রাখতে সকালে খালি পেটে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে সেই জল যদি হয় ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম, তবে তার সুফল মেলে দ্বিগুণ। কিন্তু ঠিক কতটা গরম জল (Warm Water) খাবেন আর কতটা পরিমাণই বা শরীরের জন্য সঠিক? সামান্য ভুলে উপকারের চেয়ে অপকার হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।
কেন খাবেন ঈষদুষ্ণ জল?
সকালে হালকা গরম জল পান করলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায়, যা বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে ত্বরান্বিত করে। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করার পাশাপাশি রক্তনালী প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। ফলে শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ঘাম ও মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই অভ্যাস ওষুধের মতো কাজ করে। এছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতেও এর জুড়ি নেই।
পরিমাণ ও তাপমাত্রা: কতটা সঠিক?
অনেকেই মনে করেন একবারে প্রচুর জল খাওয়া ভালো, যা আদতে ভুল।
পরিমাণ: ঘুম থেকে উঠে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলি (১-২ গ্লাস) জল খাওয়াই যথেষ্ট। একবারে ১ লিটার জল খেলে পেটে অস্বস্তি বা বমিভাব হতে পারে। শুরুতে এক গ্লাস দিয়ে অভ্যাস করা ভালো।
তাপমাত্রা: জল যেন কখনই ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম না হয়। বেশি গরম জল মুখ ও গলার টিস্যু পুড়িয়ে দিতে পারে। জল হতে হবে আরামদায়ক ঈষদুষ্ণ।
কিছু জরুরি সতর্কতা
জল খাওয়ার পরপরই প্রাতঃরাশ করবেন না। অন্তত আধ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খাবার খাওয়া উচিত। মনে রাখবেন, সকালে যা পান করছেন তার ওপর সারাদিনের হজমশক্তি নির্ভর করে। তাই সঠিক নিয়ম মেনে হালকা গরম জল পানের অভ্যাস আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা দিতে পারে।

