উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সন্তান খেতে বসলেই কি অনাগ্রহ দেখায়? খাবার সামনে এলেই শুরু হয় কান্না কিংবা চিৎকার? খাওয়ার টেবিল প্রতিদিন ‘কুরুক্ষেত্র’ হয়ে ওঠা অনেক বাবা-মায়ের কাছেই এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ। কেউ বকাঝকা করে, আবার কেউ ভুলিয়ে-ভালিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। তবে এই সমস্যার এক সহজ ঘরোয়া সমাধান হতে পারে ‘ঘি’। ডাল-ভাত কিংবা আলু সেদ্ধ-ভাতের সাথে সামান্য ঘি মিশিয়ে দিলে অনেক শিশুই আর বায়না না করে খেয়ে নেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিশুদের জন্য ঘি ঠিক কতটা নিরাপদ বা কোন বয়স থেকে এটি দেওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘি হলো শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্যতম সেরা উৎস। ঘিয়ে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড খুব সহজেই শরীরের সাথে মিশে যায়, যা শিশুদের ওজন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।
ঘিয়ের প্রধান উপকারিতাগুলো হলো:
-
মস্তিষ্কের বিকাশ: শিশুর জন্মের পর প্রথম ২ বছরের মধ্যেই তার মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ বিকাশ ঘটে। যেহেতু মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই ফ্যাট দিয়ে তৈরি, তাই ঘিয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শিশুর মেধাবিকাশে অত্যন্ত জরুরি।
-
ভিটামিন শোষণ: ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে হলো ফ্যাটে দ্রবণীয়। খাবারে ঘি থাকলে শরীর এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলো সহজেই গ্রহণ করতে পারে। তবে শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলেই তার খাবারে ঘি মেশানো শুরু করা যেতে পারে। তবে পরিমাণ নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
-
৬ মাস থেকে ১ বছর: প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার।
-
১ থেকে ৩ বছর: প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিলিলিটার।
-
৩ বছরের উপরে: প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত ঘি দেওয়া যেতে পারে।
শিশুরা সাধারণত ঘিয়ের স্বাদ ও গন্ধ পছন্দ করে। তাই খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিমিত ঘি হতে পারে আপনার সেরা হাতিয়ার। তবে যেকোনো নতুন খাবার শুরু করার আগে শিশুর শারীরিক অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা শ্রেয়।

