শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: দেশীয় ক্ষুদ্র চা চাষের (Bengal Tea in Netherlands) সাফল্যের কথা উঠে এল নেদারল্যান্ডসের মঞ্চে। সম্প্রতি সেখানকার বিদেশমন্ত্রকের আমন্ত্রণে আমস্টারডামে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উগান্ডা, ইন্দোনেশিয়ার মতো ক্ষুদ্র চা চাষ করা দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ভারত থেকেও কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)-এর প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদকেরও দায়িত্বে থাকা বিজয়গোপাল বলেন, ‘ভারত তথা উত্তরবঙ্গে ক্ষুদ্র চা চাষের প্রসার, সম্ভাবনা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ-এর কথা সভায় বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস সরকারের মন্ত্রী তথা অন্য প্রতিনিধিরা খুব খুশি হয়েছেন। এখানকার ক্ষুদ্র চা চাষের উন্নয়নে ওঁরা নতুন করে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’
নেদারল্যান্ডস ২০২০ সালে ভারতের ক্ষুদ্র চা চাষিদের নিয়ে ‘রিক্লেইম সাসটেনেবিলিটি’ নামে একটি প্রকল্প চালু করে। যার মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। ওই দেশেরই বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘সলিডারিডেড’ ভারতে কাজটি করে। প্রকল্পের অগ্রগতির ওপর আলোচনা করতে এবারের আন্তর্জাতিক কনক্লেভ আয়োজিত হয়। তাতে নেদারল্যান্ডসের আর্থিক সহযোগিতায় উত্তরবঙ্গ সহ গোটা দেশ মিলিয়ে ৬৭,০৩৫ জন চাষিকে ক্ষুদ্র চা চাষের খুঁটিনাটি তথ্যনির্ভর একটি মোবাইল অ্যাপ-এর আওতায় এনে তাঁদের ‘স্মার্ট চাষি’-তে পরিণত করা, একত্রিত করে ২৩২৮টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি, প্রশিক্ষণের সুফল হিসেবে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৫০-৬৭ শতাংশে কমিয়ে আনা ও রাসায়নিকের পেছনে ২৮ শতাংশ খরচ হ্রাস, ক্ষুদ্র চা চাষিদের স্বশক্তিকরণের মাধ্যমে সরকারি নজরে নিয়ে আসার মতো প্রাপ্তিগুলির কথা উঠে আসে।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের (Cooch Behar) মতো জেলাগুলিতে মহিলারাও কাঁচা পাতা উৎপাদনের পাশাপাশি বাড়িতে বসেই নিজেদের হাতে তৈরি চা বাজারে বিক্রি করছেন এমন উদাহরণ তুলে ধরেন বিজয়গোপাল। এদিকে ক্ষুদ্র চা চাষই যে বর্তমানে দেশের চা শিল্পের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে তা টি বোর্ডের জারি করা সদ্য প্রকাশিত একটি তথ্যেও পরিষ্কার। ২০২৪ সালে যেখানে ক্ষুদ্র চাষিদের বাগান থেকে মোট উৎপাদন-এর শতকরা ৫৪ শতাংশ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে ওই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ শতাংশে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র চা চাষিদের অবদান এখন শতকরা ৬৮ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের প্রাচীন কেআইটি হলে আয়োজিত ওই সভায় বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে ৩৬০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ‘সলিডারিডেড’-এর মাধ্যমে নেদারল্যান্ডস ভারতের চায়ের উন্নয়নে যে প্রকল্পটি সদ্য শেষ করেছে তার সহযোগিতায় ছিল ভারতের অন্যতম চা বণিকসভা ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএ)।

