Bengali Calendar | ডিজিটাল যুগেও ঐতিহ্য অটুট, পয়লা বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা বেড়েছে বাংলা ক্যালেন্ডারের

শেষ আপডেট:

অনসূয়া চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: কোনওটিতে রয়েছে গোপালের ছবি, আবার কোনওটিতে রয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ বা লোকনাথ বাবার ছবি। সামনেই বাঙালির নববর্ষ। তাই বিভিন্ন ছাপাখানা এখন বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরি করতে ব্যস্ত। পয়লা বৈশাখ মানে শহরের প্রবীণদের কাছে আজও মিষ্টির প্যাকেট ও বাংলা ক্যালেন্ডার নিয়ে বাড়ি ফেরা। মাঝে বাংলা ক্যালেন্ডারের (Bengali Calendar) চাহিদা বেশ কমে গেলেও এবছর সেই চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সমাজপাড়ায় প্রায় ৪৫ বছর ধরে ছাপাখানা চালাচ্ছেন রুহি দাস সরকার (Jalpaiguri)। বর্তমানে তাঁর ছেলেরা এই ছাপাখানা চালান। সেখানে যেতে চোখে পড়ে দেবদেবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ছবি দেওয়া ক্যালেন্ডার পড়ে রয়েছে। সেগুলিতে বাংলার মাস, তারিখ ছাপার কাজ চলছে। এবছর ক্রিস্টাল ক্যালেন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। ক্যালেন্ডারগুলিতে প্লাস্টিকের প্রলেপ দেওয়া রয়েছে।

হাতে সময় কম তাই অর্ডার ডেলিভারি দিতে ব্যস্ত সুকুমার সরকার, উত্তম সরকার, সুমন রায়রা। ক্যালেন্ডারের কাজ করতে করতে সুকুমার বলেন, ‘পুরোনো ডিজাইন ফের বাজারে ফিরে আসছে। এবছর বেশ ভালো অর্ডার এসেছে। আগেরবার ৫ হাজার পিস ক্যালেন্ডারের অর্ডার এসেছিল। এবছর দ্বিগুণ অর্ডার পেয়েছি৷ ক্যালেন্ডার ছাড়াও হালখাতার নিমন্ত্রণের কার্ড তৈরির অর্ডারও পেয়েছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আমরা ডিজিটাল কার্ড ডিজাইন করতে শুরু করেছি।’ তিনি আরও জানান, ক্যালেন্ডারের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। ক্রিস্টাল ক্যালেন্ডারগুলি এক পিস ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। একদম সাধারণ ক্যালেন্ডারগুলির এক পিসের দাম ১৯ টাকা।

যতই ডিজিটাল ক্যালেন্ডার আসুক বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা আজও অটুট। ব্যবসায়ীরাও তাই গ্রাহকদের হাতে এই ক্যালেন্ডার তুলে দিতে উদ্গ্রীব। জলপাইগুড়ি শহরের কাপড় ব্যবসায়ী বিপ্লব দাস বলেন, ‘মাঝে প্রায় কয়েক বছর ক্যালেন্ডার দেওয়া বন্ধ রেখেছিলাম। তবে, গতবছর নববর্ষের দিন হালখাতা করতে এসে প্রচুর মানুষ বাংলা ক্যালেন্ডার চেয়েছিলেন। না দিতে পেরে নিজেরও খারাপ লেগেছিল। তাই এবছর ২০০ পিস অর্ডার দিয়েছি।’

বছর আশির সুজাতা পাল বলেন, ‘বাংলা ক্যালেন্ডার মানে আমাদের কাছে ছিল অমাবস্যা-পূর্ণিমা সহ বিভিন্ন তিথি দেখা। কিন্তু এখন অনেক ইংরেজি ক্যালেন্ডারেও তা পাওয়া যায়। যতই সবকিছু ডিজিটাল হয়ে যাক না কেন নববর্ষের দিন বাড়িতে বাংলা ক্যালেন্ডার না এলে ভালো লাগে না। এগুলো আমাদের ঐতিহ্য।’ একই কথা জানান শহরের আরেক বাসিন্দা হরিদাস বিশ্বাস।

Shahini Bhadra
Shahini Bhadrahttps://uttarbangasambad.com/
Shahini Bhadra is working as Trainee Sub Editor. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Online. Shahini is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Share post:

Popular

More like this
Related

Chhit Sakati Voting Struggle | তিনবার নদী পেরিয়ে বুথে যাওয়ার লড়াই, দুর্গমতম বুথের হাড়হিম করা গল্প

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: গ্রাম থেকে বেরিয়ে তিনবার কুড়ুম নদী...

Election Campaign | প্রতীকহীন প্রচারে তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, তিন হাজারি ‘তাস’ বিজেপির

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি: ভোটের সময় চড়া টোনে মিটিং, মিছিল...

Election 2026 | কাশ্মীর থেকে ময়নাগুড়িতে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি! ভোট অশান্তি রুখতে নজিরবিহীন টহল কেন্দ্রীয় বাহিনীর

ময়নাগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের (Election 2026) প্রাক্কালে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল...

Kamtapuri Vote | কাকে ভোট, দ্বিধায় কামতাপুরিরাও, উত্তরবঙ্গে লক্ষ্য এক হলেও বিভক্ত সংগঠনগুলি

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: তাদের সকলের দাবি এক। পৃথক রাজ্য...