উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ওজন কমানোর লড়াইয়ে ডায়েট আর শরীরচর্চার পাশাপাশি আমরা সবচেয়ে বেশি যার ওপর নির্ভর করি, তা হল ওজন মাপার যন্ত্র। কিন্তু যন্ত্রের কাঁটা কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? সকালে এক ওজন তো বিকেলে অন্য— এমনটা দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। আসলে ত্রুটি যন্ত্রের নয়, সমস্যা ওজন মাপার সময়ে। ওজন কমানোর যাত্রায় মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সঠিক সময়ে ওজন মাপা অত্যন্ত জরুরি (Weigh)।
কখন ওজন মাপলে ভুল ফলাফল আসতে পারে?
দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে ওজন মাপলে শরীরে জল বা হরমোনের তারতম্যের কারণে ওজন বেশি দেখাতে পারে। যেমন:
দীর্ঘ যাত্রার শেষে: ট্রেন বা বিমানে দীর্ঘ ভ্রমণের পর শরীরে জল ও খনিজের ভারসাম্যে হেরফের হয়। এই ক্লান্তি অবস্থায় ওজন মাপা ঠিক নয়।
নোনতা ও ভারী খাবারের পর: নুন শরীরে জল ধরে রাখে। তাই নোনতা খাবার বা ভারী খাবার খাওয়ার পর ওজন এক-দুই কেজি বেশি দেখাতেই পারে।
পিরিয়ড চলাকালীন: মেয়েদের ঋতুচক্রের সময় হরমোনের প্রভাবে শরীরে ফ্লুইড রিটেনশন বা জল জমে। এই সময়ে ১-৩ কেজি পর্যন্ত ওজন বেশি দেখাতে পারে।
শরীরচর্চার ঠিক পর পরই: ব্যায়ামের ফলে শরীর থেকে ঘাম বেরিয়ে যায় এবং পেশিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় ওজন মাপলে সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না।
ওজন মাপার সঠিক নিয়ম কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ওজন না মেপে সপ্তাহে মাত্র একদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ওজন মাপুন। সবচেয়ে আদর্শ সময় হল সকালে ঘুম থেকে উঠে শৌচকর্ম সারার পর খালি পেটে। জল, চা বা কফি খাওয়ার আগেই ওজন মেপে নিন। মনে রাখবেন, আগের রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট খেলেও পরের দিন সকালে ওজন সামান্য বেশি দেখাতে পারে। তাই একদিনের ফলাফলে বিচলিত না হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মনোনিবেশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

