দিনহাটা: দিনহাটা-২ ব্লকের পশ্চিম মশালডাঙ্গায় প্রায় তিন বছর ধরে তালাবন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এতদিনেও সেখানে পরিষেবা চালু না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার আড়াই থেকে তিন হাজার বাসিন্দা। চিকিৎসার সামান্য প্রয়োজন হলেও বাসিন্দাদের ছুটতে হয় নাজিরহাট, শালমারার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিংবা দিনহাটার হাসপাতালে।
২০১৭ সালে সরকারি উদ্যোগে নাজিরহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই এলাকায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তৈরি হয়েছিল। প্রায় চার বছর পরিষেবা দেওয়ার পর ২০২২ সালে হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটি। কিন্তু হঠাৎ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেল কেন? জমিদাতা মোজাম্মেল শেখ জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য জমি দেওয়ার সময় স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জমিদাতার পরিবারের একজনকে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চার বছর কেটে গেলেও প্রশাসন সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তাঁর কথায়, ‘প্রশাসন কথা রাখেনি, তাই ২০২২ সালে কেন্দ্রের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিই। তারপর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে কেন্দ্রটি।’
গ্রামবাসী জানান, এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সামান্য অসুখবিসুখে চিকিৎসা করাতে ভরসা সেই চার-পাঁচ কিমি দূরের নাজিরহাট কিংবা শালমারা, নয়তো কুড়ি কিমি দূরের দিনহাটা। সবচেয়ে কাছে নাজিরহাটে যেতে সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট। রাতেরবেলায় বা জরুরি পরিস্থিতিতে খুবই ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগীর পরিজনদের। এই কথাটাই বললেন স্থানীয় বাসিন্দা এক্রামুল মিয়াঁ। বললেন, ‘সরকারের এত প্রকল্প, কিন্তু আমাদের গ্রামে চিকিৎসার জন্য একটা জায়গা নেই। শিশু কিংবা বয়স্কদের নিয়ে নাজিরহাট যেতে খুবই কষ্ট হয়।’
অন্যদিকে, তিন বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকার কারণে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটিরও এখন বেহাল দশা। ভবনটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক ডাঃ রণজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে গ্রামবাসীর দাবি, শুধু তদন্ত নয় অবিলম্বে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করে স্থানীয়দের মৌলিক চিকিৎসার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।

