সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়,কলকাতা: শুধু এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলাই নয়, এবার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ। দল পৌঁছে গেছে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে। কাজ শেষে আপাতত ছুটি কয়েকটা দিনের। দুপুর দুটো নাগাদ উড়ান থেকে নেমে নিজেই ফোন করলেন। বলেছেন, ‘গোয়াতে এসে এই নামলাম। তাই আপনি ফোনে পাননি। এখন কয়েকটা দিনের বিশ্রাম।’ দলকে ছুটি দিলেও ইতিমধ্যেই মে মাসের জন্য পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন দলের হেড কোচ। প্রচুর ম্যাচ খেলতে চান এখন। বিবিয়ানোর কথায়, ‘এই তো সবে একটা ধাপ পেরোতে পেরেছি। এখনও অনেক পথ চলা বাকি। প্রচুর ম্যাচ খেলতে হবে। বিশেষ করে বিশ্বের উপরের দিকে থাকা দলগুলোর সঙ্গে না খেললে যোগ্যতা অর্জন করতে পারব না।’ কিন্তু আপনার দল তো মূলপর্বে পৌঁছেই গিয়েছে? প্রশ্নটা শুনে উলটো দিকে মৃদু হাসির আওয়াজ। এরপর যা বললেন সেই কথা শুনে অবাক হওয়ার পালা এই প্রতিবেদকের। বিবিয়ানো বললেন, ‘আমি এশিয়ান কাপের নয়, বিশ্বকাপের কথা বলছি। প্রথম আটে থাকতে পারলে সরাসরি বিশ্বকাপে পৌঁছানো যাবে।’ স্বপ্ন দেখছেন নিজে, দেখাচ্ছেন দলের ছেলেদের এবং অবশ্যই দেখাতে চান সারা দেশবাসীকে। রবিবার ম্যাচের পরই শুভেচ্ছা জানান এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তাঁকেও এই স্বপ্নের কথা জানিয়ে দিয়েছেন বিবিয়ানো।
শেষ ম্যাচে ইরানের মতো দল। এত উচ্চমানের একটা দলকে হারানোর ফর্মুলা কী জানতে চাইলে গোয়ান কোচ বলেছেন, ‘আমাদের কাছে এটা মাস্ট উইন ম্যাচ ছিল। জিততে না পারলে যাবতীয় স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যেত। লেবানন ম্যাচে হারের পর থেকে ছেলেদের মধ্যে জেদ এসে যায় যে শেষ ম্যাচে জিততেই হবে। এদের বিশ্বাস ছিল যে বাছাইপর্ব পার করা সম্ভব। আমার কাজ ছিল ছেলেদের ওই উৎসাহটাকে কাজে লাগানো। আর বাস্তবে কীভাবে রূপায়ণ করা সম্ভব সেই রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া। টেকনিকালি ও ট্যাকটিকালি যা যা বলা এবং করা দরকার সবই করেছিলাম। আর একটা কথা ছেলেদের বলেছিলাম। সেটা হল, ইরান আমাদের থেকে অভিজ্ঞতাই বলুন কী টেকনিক, সবদিকেই এগিয়ে। কিন্তু তবুও সারা ম্যাচে অন্তত দুটি কী তিনটি সুযোগ আমরা পাবই। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে হবে। ছেলেরাও সেটা মাথায় রেখেছিল। এক গোল কী তিন গোল সেটা বড় কথা নয়। জিততে হবে, এটাই ছিল মূলমন্ত্র।’
মে মাসে এশিয়ান কাপ। তার আগে অন্তত এক মাসের শিবির চাইছেন বিবিয়ানো। সঙ্গে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ। যা তিনি আগামী মাস থেকেই শুরু করতে চান। এখন দেখার যাবতীয় ডামাডোল সামলে এই দলটার জন্য কত দ্রুত প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে পারেন ফেডারেশন কর্তারা।

