বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ইট আর টেরাকোটার কারুকার্য আজও মনে করিয়ে দেয় পাল যুগের শৌর্যবীর্যের কথা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের (Kumarganj) গোপালগঞ্জ ধাদলপাড়ার বিদ্ধেশ্বরী রামেশ্বরধাম (Biddheswari Rameshwardham) এমনই এক সহস্রাব্দ প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী।
বর্তমানে এখানে যে শিব মন্দির ও শিবলিঙ্গটি দেখা যায়, তা খুব বেশি পুরোনো না হলেও এর ভিত্তিটি অত্যন্ত প্রাচীন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান মন্দিরটি যে উঁচু ঢিপির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার নীচেই চাপা পড়ে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো এক শিব মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। বিভিন্ন সময়ে মাটি খুঁড়তে গিয়ে সেখানে প্রাচীন ইট ও নকশা করা টেরাকোটার ভগ্নাংশ পাওয়া গিয়েছে যা এই জনশ্রুতিকে আরও জোরালো করে।
জেলার বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ সমিত ঘোষ এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ইটের গঠন দেখে তিনি জানান, বেরিয়ে আসা ইটে টেরাকোটার কাজ দেখলেই বোঝা যায় এই মন্দির অত্যন্ত প্রাচীন। প্রায় হাজার বছরের পুরোনো তো হবেই। তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া ইটের গঠন ও টেরাকোটার নকশা দেখে অনুমান করা যায়, এগুলি পাল যুগের।’ তাঁর মতে, জেলার শিববাড়ি, করদহ ও আমিনপুরের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মতোই এই ধামটিও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভক্তি তো রয়েছেই। সেইসঙ্গে নানা জনশ্রুতিও জড়িয়ে রয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক বিপ্লব মণ্ডল এলাকার প্রাচীন ইতিহাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘মন্দিরটির বয়স হাজার বছরেরও বেশি হবে। বহু বছর আগে বাবা রামেশ্বর এখানে পুজো করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখানকার শিব মন্দিরের নাম হয় রামেশ্বরধাম।’ ভক্তদের মতে, প্রাচীনকালে এই নির্জন স্থানটি ছিল সাধনা ও তীর্থযাত্রার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বর্তমানে এলাকাবাসীর উদ্যোগেই এখানে নিয়মিত পূজার্চনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে শিবরাত্রি ও চৈত্র সংক্রান্তির সময় দূরদূরান্ত থেকে অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে। ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা আর লোকবিশ্বাসের হাত ধরে বিদ্ধেশ্বরী রামেশ্বরধাম আজও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গর্ব হিসেবে টিকে আছে।

