উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস (Habits) যে কীভাবে নিঃশব্দে আমাদের অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে সে ধারণা বোধহয় আমাদের কারও নেই। নিয়মিত চোখ ঘষা থেকে আপনি কীভাবে ডেস্কে বসছেন, কত তাড়াতাড়ি খাচ্ছেন, কত জোরে গান শুনছেন প্রভৃতি সবকিছুই আমাদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের অভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ বলে মনে হলেও এগুলো আপনার অজান্তে হৃদযন্ত্র থেকে ফুসফুস, মস্তিষ্ক এমনকি কিডনিকেও প্রভাবিত করতে পারে। মুম্বইয়ের অর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ মনন ভোরা এমনই আট অভ্যাস চিহ্নিত করেছেন।
কোন অঙ্গে কীভাবে প্রভাব


ফুসফুস – মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নয়
নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস িনলে শ্বাসনালি শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে সহজেই আপনার ঠান্ডা লাগতে পারে বা সংক্রমণ হতে পারে। সময়ের সঙ্গে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা দেখা দেয়। এতে আপনার শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। তাই সবসময় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন।
হার্ট – দীর্ঘসময় বসে থাকা এড়িয়ে চলুন
যখন আপনি কোনও নড়াচড়া ছাড়াই কয়েক ঘণ্টা ধরে এক জায়গায় বসে থাকেন, তখন আপনার শরীরে রক্ত সঞ্চালনের গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে যায়। এই অবস্থা আপনার হৃদযন্ত্রকে আরও বেশি কাজ করতে বাধ্য করে, এমনকি সময়ের সঙ্গে এর উপর অতিরিক্ত স্ট্রেস ফেলে। হার্ট সুস্থ রাখতে টাইমার সেট করুন এবং প্রতি ঘণ্টায় কয়েক মিনিটের জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠুন, স্ট্রেচ করুন এবং অল্প হেঁটে আসুন।
চোখ – ঘষবেন না
চোখ যখন চুলকোয় বা ক্লান্ত লাগে তখন চোখ ঘষলে বেশ আরামই লাগে। যদিও এই চোখ ঘষা ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, আপনি তো সবসময় হাত ধুয়ে তারপর চোখ ঘষছেন না। ফলে ওই অপরিষ্কার হাত চোখে দেওয়ায় বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া চোখের পরিষ্কার সামনের অংশ ছোট ছোট আঁচড়ের কারণ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিগত সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে।
পেট – ধীরে খান
আপনি যদি খুব তাড়াতাড়ি খাবার খান বা ক্রমাগত অতিরিক্ত খাবার খান তাহলে তা আপনার পাকস্থলী ও হজম প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। আপনি যে খাবার খান তা যথাযথভাবে পরিপাকের জন্য পাকস্থলীর সময়ের প্রয়োজন। অতএব পাকস্থলীকে সাহায্য করতে চাইলে যথাযথাভাবে চিবিয়ে খান, ধীরে ধীরে খান। আর একবারে অনেকটা না খেয়ে বারেবারে অল্প অল্প খান।
লিভার – রাতে ভারী খাবার নয়
রাতে শোয়ার আগে মশলাদার, ভারী খাবার খেলে লিভারের ওপর বিশাল চাপ পড়ে, অথচ তখন এর বিশ্রাম নেওয়া উচিত। রাতের ভোজ বিপাক ক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে। ফলে শরীরের পক্ষে শক্তি উৎপাদন করা কঠিন হতে পারে। তাই লিভার ভালো রাখতে চাইলে শোয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে ডিনার সেরে নিন।
কিডনি – হাইড্রেটেড থাকুন
রক্ত পরিষ্কার রাখতে কিডনি প্রচুর পরিশ্রম করে, কিন্তু পর্যাপ্ত জল না পেলে কাজটা কিন্তু সঠিকভাবে করতে পারবে না। আপনি যদি পরিমিত মাত্রায় জল না খান বা ডিহাইড্রেশনে ভোগেন তাহলে তা কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ ফেলতে পারে। ডিহাইড্রেশনের কারণে কিডনিতে পাথর হতে পারে, যা থেকে খুব ব্যথা হয়। তাই কিডনি ভালো রাখতে সারাদিনে পরিমিত মাত্রায় জল খেতে ভুলবেন না।
মস্তিষ্ক – একটা কাজেই ফোকাস করুন
একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করলে বা মাল্টিটাস্কিং করলে মনে হতে পারে অনেক বেশি কাজ করছেন, কিন্তু আদতে তা আপনার মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে। ক্রমাগত মনোযোগ পরিবর্তন ফোকাস কমানোর পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, একটা কাজ সম্পূর্ণ করে তবেই আরেকটা কাজ ধরুন। এতে আপনি অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ হবেন এবং আপনার চিন্তাভাবনাও উন্নত হবে।
কান – ভলিউম কমান
নিয়মিত জোরে গান শোনা বিশেষ করে হেডফোনের মাধ্যমে শুনলে তা কানের ভেতরের সূক্ষ্ম অংশের ক্ষতি করতে পারে। এটি কিন্তু সাময়িক ক্ষতি নয়, বরং সময়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। তাই কানের সুরক্ষায় মাঝারি মাত্রার ভলিউমে গান শুনুন এবং সম্ভব হলে প্রচণ্ড শব্দ থেকে কানকে দূরে রাখুন।

