কিশনগঞ্জঃ পরকীয়ার জের! বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের আরারিয়া জেলার তারাবাড়ি থানার পুলিশ হেপাজতে আত্মহত্যা করে জামাইবাবু ও শ্যালিকা। এই আত্মহত্যার ভিডিও ভাইরাল হতেই গতকাল দিনভর বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। যুগলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তোলেন মৃতদের পরিবারের লোকেরা। সেই ঘটনার রেশ জিইয়ে রইল শনিবারও। গোটা এলাকা থমথমে।
গতকাল পুলিশ হেপাজতে আত্মহত্যার ঘটনায় স্থানীয়রা ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল বিহারের আরারিয়া জেলার তরোনা ও গরিবাড়ি এলাকায়। পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর, থানায় অগ্নিসংযোগ, গোলাগুলি, সহ কোনও কিছুই বাদ যায়নি এদিন। এদিনের ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকে কার্যত পুরুষ শূন্য তরোনা ও গরিবাড়ি গ্রাম। এদিন সেই গ্রাম গুলিতে গিয়ে দেখা গেল শ্মশানের নীরবতা বিরাজ করছে সেখানে।


জানা গিয়েছে, শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে বলে অভিযোগ এসেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। পালটা পুলিশও ৫ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন মালতী দেবী নামে এক মহিলা। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে পূর্ণিয়া মেডিকেল কলেজে। অপর গুলিবিদ্ধ এক যুবকের চিকিৎসা চলছে নেপালের বিরাটনগরের এক হাসপাতালে।
এদিন উত্তপ্ত তরোনা ও গরিবাড়ি গ্রাম পরিদর্শনে যান পূর্ণিয়া জোনের ডিআইজি বিকাশ কুমার। এই গ্রাম দুটিতে পুলিশ পিকেট রয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে তারাবাড়ি থানার পুলিশ পরকীয়ায় জড়িয়ে নাবালিকা শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে পুলিশ জামাইবাবুকে গ্রেপ্তার করে। আটক করা হয় নাবালিকা শ্যালিকাকেও। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের হেপাজতে দুজনেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান পরকীয়া প্রেমের জেরে যুগলে পুলিশের হেফাজতে থানায় আত্মহত্যা করে। সেই আত্মহত্যার ঘটনার পুরোটাই ধরা পড়ে সিসিটভি ফুটেজে। ডিআইজি জানান এই ঘটনায় মৃত যুগলের মৃতদেহের ময়না তদন্ত হয়েছে আরারিয়া সদর হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে। পুরোটাই ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তারাবাড়ি থানার আইসি, ওসি, চৌকিদারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি এইপুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও মামলা করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

