আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার: সন্তোষ ট্রফির বাংলা দলে সুযোগ পেলেন আলিপুরদুয়ারের বিকি থাপা (Biki Thapa Santosh Trophy Bengal)। এর আগেও আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলা থেকে শুভম রায় ও আদিত্য থাপা সন্তোষ ট্রফির বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বিকির নাম। বুধবার বাংলা দলে বিকির নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জেলার ক্রীড়া মহল। সুযোগ পেয়ে বিকি বলেন, ‘খুব আনন্দ হচ্ছে। নিজের একশো শতাংশ দিয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করব। বাংলা দলের জার্সি পরে খেলাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো।’ সন্তোষ ট্রফিতে বাংলার প্রথম ম্যাচ নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে জোরকদমে অনুশীলন করছেন বছর পঁচিশের এই তরুণ।
বিকির বাড়ি কালচিনি (Alipurduar Sports News) ব্লকে দলসিংপাড়া রংবাহাদুর বস্তিতে। ছোট থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ। মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে বা টিভিতে ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেখতে খেলার প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। ১৩ বছর বয়স থেকে বিকি ফুটবলের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। বিকির বাবা বিনয় থাপা পেশায় গাড়ির চালক। তিনিও অবশ্য একসময় ফুটবল খেলতেন। মা ভগবতী থাপা সংসার সামলান। বিনয় বলেন, ‘ছোট থেকেই বিকির ফুটবলের প্রতি আগ্রহ। ছেলে আরও বড় জায়গায় যাক এই প্রার্থনা করছি।’
বিকি সন্তোষ ট্রফির জন্য ট্রায়াল দিয়েছিলেন সল্টলেক ট্রেনিং গ্রাউন্ডে। সেখানে ভালো প্রদর্শনের পরেই বাংলা দলে ডাক পেয়েছেন। বিকি ফুটবল শেখা শুরু করেন দলসিংপাড়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমিতে। হেঁটে অনুশীলনে যেতেন। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অনুশীলন করতেন। ওই অ্যাকাডেমিতেই টানা ১০ বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিকি ২০১৮-’১৯ মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে গিয়ে ত্রিপুরা লিগে এগিয়ে চলো সংঘ, দিল্লি লিগে হিন্দুস্তান ক্লাব, সিকিমে হিমালয়ান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে তিনি কলকাতার ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে সেকেন্ড ডিভিশনে আই লিগ ও কলকাতা লিগেও খেলেছেন।
বিকি মিডফিল্ড পজিশনে খেলেন। তাঁর পছন্দের ফুটবলার পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও ভারতের অনিরুদ্ধ থাপা। আগামীতে তিনি ভারতের হয়ে খেলতে চান। দলসিংপাড়া স্পোর্টস অ্যাকাডেমির সচিব সঞ্জয় গুপ্ত বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত। আমাদের অ্যাকাডেমির আদিত্য থাপা সন্তোষ ট্রফির চ্যাম্পিয়ন দলে ছিল। এবার বিকি সুযোগ পেয়েছে।’

