রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: দলের জন্মলগ্ন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে নিজেরা প্রার্থী দিলেও প্রতিটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করে গিয়েছে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (GJMM)। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জোটে থেকেও পাহাড়ের তিনটি আসনে বিমলের প্রার্থীই লড়ে হেরেছেন। সেই থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়ে পরিস্থিতির চাপে এবার বিধানসভা ভোটেও বিজেপির হাত ধরেই চলতে চাইছেন বিমল।
সম্প্রতি সাংসদ রাজু বিস্টকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিমল এবং রোশন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ফের পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান, ১১ জনগোষ্ঠীকে তপশিলি উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। আর এর থেকেই আসন্ন বিধানসভা ভোটে নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে বিজেপিকেই মোর্চা সমর্থন দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ে বিমলদের পায়ের তলার মাটি পুরোপুরি আলগা হয়ে গিয়েছে। গত পঞ্চায়েত ভোটেও সেটা হারে হারে টের পেয়েছেন বিমল। অপরদিকে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম) বহুগুণ শক্তি বাড়িয়েছে। তাই সম্মান বাঁচাতে বিজেপিকে সমর্থনের পথেই হাঁটছে মোর্চা। দলের সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি বলেছেন, ‘এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলে আলোচনা চলছে।’ দার্জিলিংয়ের সাংসদ বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্ট বলেছেন, ‘মোর্চা কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের বিষয়। বিমল গুরুংদেরই জিজ্ঞাসা করুন।’
২০০৭ সালে বিমল গুরুংয়ের হাত ধরে তৈরি হয় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে উত্তাল হয়ে পাহাড়। ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন দেয় মোর্চা। দাবি ছিল, বিজেপি ছোট রাজ্যের পক্ষে। তাই বিজেপি ক্ষমতায় এলে গোর্খাল্যান্ডের দাবি পূরণ হবে। সেবার দার্জিলিং থেকে বিজেপি জিতলেও কেন্দ্রে সরকার গড়তে পারেনি। ফলে মোর্চার দাবি পূর্ণতা পায়নি। এরপরেই ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে মোর্চা পাহাড়ের তিনটি আসনেই প্রার্থী দেয়। বিজেপি মোর্চাকেই সমর্থন দেয় এবং তিনটি কেন্দ্রে বিমলের প্রার্থী জয়ী হন। ২০১৪ এবং ২০১৯ লোকসভা ভোটেও বিজেপিকেই সমর্থন দিয়েছিল মোর্চা। তবে, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে নিজেরা লড়াই করে তিনটিতে জয়ী হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রচুর মামলায় জড়িয়ে বিমল আত্মগোপন করেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনের পরে তৃণমূলের হাত ধরে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড়ে ফেরেন। সেবারও তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে পাহাড়ের তিনটি আসনেই প্রার্থী দিলেও মোর্চাকে পাহাড়ের মানুষ আর গ্রহণ করতে পারেননি। যার জেরে পাহাড়ের তিনটিতে ২০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি বিমলের প্রার্থীরা। এরপর থেকে পাহাড়ে বিমলদের রাজনৈতিক মাটি আরও আলগা হয়েছে। গত পঞ্চায়েত ভোটেও পাহাড়ে বিমলের প্রার্থীরা মুখ থুবড়ে পড়েছেন। তারপর থেকে বিমল তৃণমূল শিবির ছেড়ে ফের বিজেপির দিকে মোড় নিয়েছেন। চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিজেপিকেই সমর্থন দেয় মোর্চা।
কিন্তু এবার বিধানসভা ভোটেও নিজের প্রার্থী দিতে সাহস পাচ্ছেন না গুরুং। জামানত জব্দ হয়ে যাওয়ার ভয়ে বিজেপির ল্যাজ ধরে চলতে চাইছেন।

