আশিস মণ্ডল, বোলপুর: তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠী সংঘর্ষের জের। বুথ সভাপতিকে খুনের অভিযোগ উঠল বীরভূমের (Birbhum) নানুর থানার পাতিসাড়া গ্রামে। ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও ৪ জন। নিহতের নাম রাসবিহারী সর্দার (৫২)। তিনি নানুরের (Nanoor) থুপসরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতিসাড়া গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি ছিলেন। তিনি কাজল শেখ ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে দাবি পরিবারের। এদিকে অপর গোষ্ঠী অনুব্রত মণ্ডল ‘ঘনিষ্ঠ’ করিম খানের লোক বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার রাতে নানুরের বাসাপাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের উপর আক্রমণ হয় বলে দাবি কাজল গোষ্ঠীর। ঘটনাস্থলেই রাসবিহারী সর্দারকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও শাবল দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। রাসবিহারী সর্দারের সঙ্গে থাকা আরও চার দলীয় কর্মীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
নিহতের ছেলে মানস সর্দার বলেন, ‘বাবাকে যারা খুন করেছে তারা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ঘনিষ্ঠ করিম খানের গোষ্ঠীর লোকজন। তারা প্রায়ই ফোন করে বাবাকে অনুব্রত মণ্ডলের গোষ্ঠীর লোকজনদের সঙ্গে দল করতে হুমকি দিত। এমনকি অনুব্রত মণ্ডলের গোষ্ঠীর দলে যোগ না দিলে খুনেরও হুমকি দিত তারা।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল বাসাপাড়া পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। গ্রামের কাছে ওরা আমার বাবা এবং দলের আরও চার কর্মীকে ধরে মারধর শুরু করে। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আমাকেও মারধর করে। বাবাকে ওরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।’ এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নানুর সহ বেশ কয়েকটি থানার পুলিশ। সারারাত গ্রামে পুলিশের টহলদারি চলে। ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। জখমদের চিকিৎসা চলছে।
এবিষয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের বক্তব্য, ‘খুন, রাহাজানি তৃণমূলের সংস্কৃতি। বামফ্রন্ট আমলে ওরা ১১ জন খেতমজুরের মৃতদেহকে সামনে রেখে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন নিজেরাই নিজেদের খুন করেছে। মানুষ বুঝতে পারছে কাদের ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। ২০২৬-এ এদের ছুড়ে ফেলে দেবে।’

