নয়াদিল্লি: লালকেল্লার কাছে ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৫। সোমবার আরও দু’জন আহত এলএনজেপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। মৃতদের পরিচয় লুকমান (৫০) এবং বিনয় পাঠক (৫০)। এখনও বহু আহত হাসপাতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লালকেল্লা এলাকার গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সোমবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি জসির বিলাল ওয়ানি, ওরফে দানিশ, যিনি কাশ্মীরেরই বাসিন্দা।
অন্যদিকে নওগাম থানার বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে মারা যান বিলাল আহমদ ওয়ানি। সোমবার এনআইএ গ্রেপ্তার করেছে তাঁরই ছেলে দানিশ বিলালকে। সূত্রের দাবি, তাঁকে ‘ফিদায়েঁ’ হিসাবে তৈরি করছিল ডা. উমর নবি। এই সূত্র ধরে ইতিমধ্যে আরও কয়েকজনকে হেপাজতে নিয়েছেন তদন্তকারীরা। অর্থাৎ নওগাম থানার বিস্ফোরণ শুধুমাত্র একটা দুর্ঘটনা ছিল কি না তদন্তের আওতায় সেই ঘটনাও।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক ভয়ংকর তথ্য। ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউল টেলিগ্রামে দিনের পর দিন বার্তা আদানপ্রদান করেছে বিভিন্ন খাবারের নামে। কখনও কাবাব, কখনও বিরিয়ানি, কখনও দাওয়াতের কথা।
দেখতে সাধারণ কথাবার্তা, কিন্তু এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল নির্মম হামলার নির্দেশ। তদন্তকারীদের দাবি, ‘বিরিয়ানি’ মানে ছিল বিস্ফোরক, ‘দাওয়াত’ মানে নির্ধারিত হামলার দিন। ‘বিরিয়ানি তৈরি। দাওয়াতের জন্য প্রস্তুত হও।’ তদন্তকারীদের মতে, এই বার্তাটিই ছিল শেষ নির্দেশ, হামলা চালানোর চূড়ান্ত সংকেত।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলা চালাতে নেপাল থেকে কেনা হয়েছিল ৭টি সেকেন্ড-হ্যান্ড মোবাইল। যোগাযোগ রাখতে ১৭টি সিম কার্ড ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ৬টি কেনা হয়েছিল কানপুর থেকে। বেকনগঞ্জ এলাকার ভুয়ো আইডিও ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, তিন চিকিৎসক হামলার ঠিক এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত সক্রিয় যোগাযোগে ছিলেন। তবে ডা. পারভেজ, ডা. আরিফ এবং ডা. ফারুক তিনজনই এখন আটক। তাদের লাগাতার জেরা করে হামলার গোটা নকশা ও তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য সহযোগীদের পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে এনআইএ।
ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে, লালকেল্লা বিস্ফোরণ মামলায় একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তির শিক্ষিত জঙ্গি মডিউলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। মডিউলটি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদাবাদ এলাকায় সক্রিয় ছিল। মডিউলটির মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হিসাবে জম্মু ও কাশ্মীরের সোপিয়ানের বাসিন্দা ইমাম ইরফান আহমেদের নাম উঠে এসেছে। তিনিই মূলত ডাক্তার উমর উন নবিকে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করেন এবং পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরে এই গ্রুপটি জইশ-ই-মহম্মদের ‘অপারেটিভ’দের সঙ্গে দেখা করে এবং তাদের কাছ থেকে দুটি ‘একে’ সিরিজের অ্যাসল্ট রাইফেল সংগ্রহ করে, যা পরে উদ্ধার করা হয়। এই মডিউলটির সঙ্গে আল-কায়দা অনুপ্রাণিত আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ-এরও যোগসূত্র রয়েছে।

