ধূপগুড়ি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছেন সব দলের প্রার্থীরাই। আর ভোটের এই উত্তাপের মাঝেই ধূপগুড়ি বিধানসভায় (Dhupguri) তৈরি হল এক নজিরবিহীন বিতর্ক। প্রচারে গিয়ে খোদ জাতির জনক মহাত্মা গান্ধিকে (Mahatma Gandhi) ‘দেশদ্রোহী’ বলে সম্বোধন করে বসলেন বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায় (BJP candidate controversy)। আর সেই মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই (যার সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরব হয়েছে, এমনকি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিও উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
জানা গিয়েছে, সাকোয়াঝোড়া-২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীরস্থান এলাকায় দলীয় সমর্থকদের নিয়ে ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন নরেশ রায়। আর সেখানেই বক্তব্য রাখার সময় মহাত্মা গান্ধিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন তিনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা গিয়েছে, কংগ্রেস ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করেছিলেন ওই বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলছিলেন, ‘কংগ্রেস হল রাষ্ট্রবিরোধী দল। যেই দল দেশকে ভাগ করেছে। ওই সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিজস্ব স্বার্থে এবং নিজেদের বংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে এই কাজ করেছিল।’ এরপরই সরাসরি গান্ধিজিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধি তো দেশদ্রোহী।’


এরপর ওই বিজেপি প্রার্থী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আজ আমাদের বাংলা শাসন করছে ওই রাষ্ট্রবিরোধী দলেরই এক সময়ের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষের জন্য নয়, শুধুমাত্র নিজের জন্য কাজ করা।’
আর এরপরই ওই বিজেপি প্রার্থীকে একহাত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন, ‘এভাবে জাতির জনককে দেশদ্রোহী বলে অপমান করেছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হবে। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন বাতিলের জন্যেও দাবি তোলা হয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর এমন রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক মন্তব্যের জন্য ধিক্কার জানানো হবে।’
এদিকে, বিতর্কিত বিষয় হওয়ায় এনিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কিছুই বলতে চাইছে না। তবে বিজেপির পূর্ব মন্ডলের সহ সভাপতি বাপি রায় ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে ‘মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ’ হিসেবেই দেখছেন। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এলাকাতেই প্রচার ছিল। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে গিয়ে ভুল করে মহাত্মা গান্ধি বলে দিয়েছেন প্রার্থী।’

