নয়াদিল্লি: হাতে সময় অতি অল্প। পাখির চোখ এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির পদে পরিবর্তনের রাস্তায় হাঁটতে চাইছেন না দলীয় শীর্ষনেতৃত্ব (BJP)। ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভোট হওয়া পর্যন্ত জগৎপ্রকাশ নাড্ডাই থাকতে চলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে। ২০২১-এর ভোটে বিজেপি রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জায়গা করে নিলেও তাদের পায়ের তলার জমি এখনও পাকা হয়নি। সর্বত্র বুথভিত্তিক সংগঠন এখনও পর্যন্ত শক্তিশালী হয়নি। উলটোদিকে তৃণমূল যেভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ও বাঙালি বিরোধী বহিরাগত তকমা লাগিয়ে দিয়েছিল, সেই দংশন আজও তাড়া করে গেরুয়া শিবিরকে।
২০২৬-এর আগে সেজন্য পদ্মশিবির আরও সতর্ক। দলের অন্দরমহলের মতে, ঠিক এই কারণেই বিজেপি কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই নাড্ডাকেই ধরে রাখার পক্ষে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের এক বিজেপি নেতার দাবি, ‘রাজ্যে ভোটের আগে সংগঠনের মাথায় নতুন কাউকে বসানো মানে অকারণে এক্সপেরিমেন্ট। সেই ভুল করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না মোদি-শা।’ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন ব্যস্ত উত্তরপ্রদেশের সভাপতি নির্বাচন এবং শীতকালীন অধিবেশন নিয়ে। রবিবারের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের নতুন সভাপতি ঘোষণা হওয়ার কথা। কিন্তু সামনে যেহেতু মল মাস, তাই ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৪ জানুয়ারি বিজেপির ‘অন্দরের ক্যালেন্ডার’-এ এইসময়ে কোনও শুভ বা বড় কাজ শুরু হয় না। তারপর সংসদের বাজেট অধিবেশন। তা মিটলেই বেজে যাবে বাংলার নির্বাচনি দামামা। ফলে প্রস্তুতির জন্য সময় কার্যত সীমিত।
বাংলার দায়িত্ব ইতিমধ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে সংগঠনের অভিজ্ঞ কৌশলী ভূপেন্দ্র যাদবের হাতে। সূত্রের খবর, ২০২৬-এর আগে বাংলায় নিজের সংগঠনের ভিতকে আরও মজবুত করতে চাইছে বিজেপি। প্রথম ধাপে সংগঠনের বাস্তবিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে গ্রাম থেকে জেলা, জেলা থেকে রাজ্যস্তর পর্যন্ত কোথায় কোন ফাঁকফোকর, কোথায় শক্ত ঘাঁটি, কোথায় ক্ষয় সবই নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এর পরের ধাপ সবচেয়ে স্পর্শকাতর, প্রার্থী বাছাই। কোন আসনে কাকে দাঁড় করালে ভিত মজবুত হবে, কোথায় নতুন মুখ, কোথায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রশমনের প্রয়োজন, এই পুরো জটিল অঙ্কটাই এখন যাদবের টেবিলে।
দলীয় সূত্রের দাবি, জেপি নাড্ডা ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে বাংলার ভোট–প্রভারীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন। ফলে ভোটের ঠিক আগে সভাপতি পদে কোনও রদবদল হলে পুরো ছন্দটাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় নাড্ডাকে রেখেই বঙ্গের ভোট ময়দানে নামতে চাইছেন বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব।
সভাপতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি রাজ্য থেকে আরও দু’জন সাংসদকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দিল্লির দরবারে এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তবে বিহার ভোটের আগে যেভাবে বিজেপি নেতৃত্ব হঠাৎই ‘কল্পতরু’র মতো হয়ে উঠেছিলেন, বাংলায় ভোটের আগে তেমনই সাংগঠনিক উপহার বা রাজনৈতিক চমক যে আসতে পারে, তা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ নেতারাই। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর প্রহর যতই ঘনিয়ে আসছে, বিজেপির কৌশল ততই স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন নয়, পরীক্ষিত খেলোয়াড়, ঝুঁকির দৌড় নয়, পরিমিত কিন্তু নিখুঁত চাল।

