রামপুরহাট: ‘সব রাজ্য কালো অধ্যায় থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ বাকি আছে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে এমন একটা শক্তি কাজ করছে বা বিরাজ করছে তারা যতদিন থাকবে ততদিন পর্যন্ত কালো অধ্যায় থাকবে।’ বৃহস্পতিবার বন্দে মাতরমের সার্ধ শতবর্ষে গৌরব যাত্রার সূচনা করতে রামপুরহাটে আসার আগে বোলপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলকে এভাবেই কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্তবাবু বলেন, ‘বিহারে প্রথম দফার নির্বাচন চলছে। নির্বাচনে কোনও গোলমাল হয়নি। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লালু প্রসাদের সময়ে ব্যাপক হিংসা হত। বিহার সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলায়, সেই অন্ধকার অধ্যায় এখনও অব্যাহত রয়েছে। আমরা স্কুলে যখন পড়তাম তখন বিহারের কালো দিনের কথা শুনতাম। এখন পশ্চিমবঙ্গে দেখছি।’
বাংলায় SIR আতঙ্কে সাতজনের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘SIR প্রক্রিয়াটি বিজেপি পরিচালনা করছে ন। এটি নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করছে। প্রক্রিয়াটি আরও ১২টি রাজ্যেও চলছে। কিন্তু সেখানে কেউ মারা যাচ্ছে না। কেন কেবল বাংলায় মৃত্যু ঘটছে? নির্বাচন কমিশন জানে কীভাবে কাজ করতে হয়। তৃণমূল ভয় দেখাচ্ছে এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে BLO (বুথ লেভেল অফিসার) কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। BLO কে রাতে দলীয় অফিসে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে, এবং সেখান থেকে ফর্ম বিতরণ করা হচ্ছে। বিএলও-র সঙ্গে তৃণমূল ঝাণ্ডা নিয়ে ঘুরছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও BLO কে হুমকি দিচ্ছেন। মাঝে মাঝে, আমি বলতে পারি না যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী নাকি গুন্ডা।’
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির ‘ব্রাজিলিয়ান মডেল’ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই একটি ভুল ছিল। সরকারি কর্মচারীরা এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেন। এর আগে, ওসামা বিন লাদেনের ছবি বাংলার ভোটার তালিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। রাহুল গান্ধির বাস্তবতা সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। তিনি কখনও তার ঘর থেকে বের হন না। তিনি একজন ‘এসি বয়’। যারা আসলে বাইরে যান, সূর্যের নীচে হাঁটেন এবং মাটিতে মানুষের সঙ্গে দেখা করেন তারা সত্য জানেন।’ নদিয়াতে তার কনভয়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে মজুমদার বলেন, ‘এই ঘটনাগুলি ঘটে। কিন্তু আমরা কিছুটা ট্রেলার দিয়েছি। এখন দেখা যাক এরপর কী হয়। যদি কেউ আবার বিজেপি কর্মীদের আক্রমণ করে, আমরা চুপ করে থাকব না। প্রতিটি রক্তের ফোঁটার হিসাব নেওয়া হবে।’
এদিন বিকেলে রামপুরহাট পুরসভার মাঠ থেকে বিজেপির গৌরব যাত্রা শুরু হয়। শেষ হয় কামারপট্টি মোড়ে। সেখানে পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ১৭ টি এনুমারেশন ফর্ম গিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলছেন তিনি নিজে হাতে ফর্ম নেননি। তিনি ফর্ম ফিলাপ করবেন না। যতক্ষণ না বাংলা সব মানুষ ফর্ম ফিলাপ করবে। নিউটাউনে একটি বস্তি ফাঁকা করে সকলে বাংলাদেশ পালিয়েছে। আপনি যদি এককথার মানুষ হন তাহলে আপনিও ফর্ম ফিলাপ করবেন না। আপনার ভোটার লিস্টে নাম থাকবে না।’
এস আই আর প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, ‘বাংলার মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয় না। কিন্তু কথা দিচ্ছি যারা ভারতীয় সেই সমস্ত মুসলিমদের যাতে একটি নামও বাদ না যায় তার দায়িত্ব নেবে বিজেপি।’ অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখকে ষাঁড়ের সঙ্গে তুলনা করে সুকান্ত বলেন, ‘অনুব্রত মণ্ডল বলছেন এসআইআর হোক। ভালো কাজ। আর আরেক ষাঁড় কাজল শেখ এসআইআরের বিরোধিতা করছে। কাজল শেখ এবং করিম শেখ নানুরে আমাদের হিন্দুদের বেছে বেছে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে। হিন্দু মহিলাদের ইজ্জত নিয়েছে। আমরা কাজল শেখকে ছেড়ে দেব না। ঠিক সময় প্যাকিং করে ঠিক জায়গায় পাঠিয়ে দেব। আর দিদি এখন কাজল শেখদের হাতে বীরভূমকে তুলে দিয়েছে।’

