উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভা নির্বাচনের ফল (BMC Election Results 2026) বিকেলের মধ্যেই প্রকাশিত হবে। তবে তার আগে বড়সড়ো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ভারতের ধনী পুরসভা বৃহন্মুম্বই (বিএমসি)-সহ অধিকাংশ বড় শহরেই এই মুহূর্তে চালকের আসনে বিজেপি ও একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’ জোট। শুক্রবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) মোট ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে বিজেপি একাই ৯১৫টিতে এগিয়ে রয়েছে এবং তাদের সহযোগী শিন্ডে শিবির এগিয়ে ২২৯টিতে।
বিএমসিতে কোণঠাসা ঠাকরে ভাতৃদ্বয়: এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল দুই ভাই রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরের দীর্ঘ ২০ বছর পর একজোট হওয়া। বালাসাহেব ঠাকরের উত্তরাধিকার রক্ষার এই লড়াইয়ে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেও, দুপুরের ‘ট্রেন্ড’ বলছে সাধারণ মানুষ তাঁদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। মুম্বইয়ের ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে মহাজুটি জোট ১১৯টিতে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে, উদ্ধব-রাজ জুটির ভাঁড়ারে এই মুহূর্তে রয়েছে মাত্র ৭০টি আসন।
পুরসভার সামগ্রিক চিত্র: ২৯টি পুরসভার মোট ২৮৬৯টি আসনের মধ্যে লড়াই করছেন প্রায় ১৫,৯৩১ জন প্রার্থী। দুপুরের আপডেট অনুযায়ী, শুধুমাত্র মুম্বই নয়, পুণে, নাগপুর এবং কল্যাণ-ডোম্বিবলীর মতো হেভিওয়েট পুরসভাগুলোতেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট শক্তপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে। বিরোধীদের ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’ জোট বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই করায় সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে শাসক শিবির।
ভোটের হার ও রাজনৈতিক গুরুত্ব: বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের এই ২৯টি পুরসভায় ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গড় ভোট পড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। মুম্বইয়ে এবার ৫২.৯৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা ২০১৭ সালের নির্বাচনের (৫৫.৫৩%) তুলনায় কিছুটা কম। ২০২২ সালে শিবসেনার ভাঙনের পর এই নির্বাচন ছিল মূলত উদ্ধব ঠাকরের (Uddhav Thackeray) কাছে অ্যাসিড টেস্ট। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফল বলছে, শিন্ডে-বিজেপি জোটের সামনে ঠাকরে ম্যাজিক ফিকে হয়ে গিয়েছে। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে কি তবে দুই দশকের ‘ঠাকরে-যুগ’ শেষ হতে চলেছে? বিকেলের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।

