শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

Bolla Kali | চারদিনের মেলার সমাপ্তি, বিষাদভরা চোখে দেবীর বিসর্জন 

শেষ আপডেট:

বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পতিরাম: চারদিনের উৎসব, ভক্তি ও আনন্দের সমাপ্তি শেষে সোমবার বিকেলে বিষাদের সুরে শেষ হল বোল্লা রক্ষাকালীপুজো ও মেলা। বিকেলে রক্ষাকালী মায়ের বিদায় শেষে যখন ঢাকের আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে এল, তখন হাজারো ভক্তের কণ্ঠে একটাই সুর ‘আসছে কবে, বছর পরে… বোল্লা মা কি জয়!’ এমন আবেগঘন মুহূর্তের মধ্যে দিয়ে মন্দির চত্বরে পুকুরের জলে বিসর্জন দেওয়া হল মায়ের মূর্তি।

এদিন বিকেল প্রায় সাড়ে তিনটায় শুরু হয় বোল্লা রক্ষাকালী (Bolla Kali) প্রতিমার বিসর্জন প্রক্রিয়া। ওই সময় মূল মন্দিরের সামনে ঢাকের আওয়াজের পাশাপাশি লাল রংয়ের আবিরে মন্দির প্রাঙ্গণও লাল হয়ে ওঠে। গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ তখন ঢাকের তালের সঙ্গে ভক্তদের উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং আবেগমাখা চিৎকারে কেঁপে ওঠে।

এরপর লোহার চাকাযুক্ত ফ্রেমে দড়ি বেঁধে মন্দির থেকে প্রতিমা বের করে আনা হয় মন্দিরের সামনে। প্রথমে পশ্চিমমুখী করে কিছুটা টেনে নেওয়ার পর পূর্বদিকে ঘোরানো হয়। প্রায় ৪০ মিটার টেনে এনে মূল পাকা রাস্তায় দক্ষিণমুখী করে দাঁড় করানো হয় প্রতিমা।

এরপর ঐতিহ্য মেনে তিনবার দক্ষিণদিকে টেনে নিয়ে আবার উত্তরদিকে আনা হয়। সবশেষে পূর্বমুখী অবস্থায় রক্ষাকালীকে বিসর্জনঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানে পুলিশ-প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তায় দেবীকে পরানো ৩২ কেজি সোনা ও রুপোর গয়না খোলা হয়।

এই সম্পূর্ণ সময়টি ছিল ভক্তদের জন্য চরম আবেগঘন মুহূর্ত। দেবীর মূর্তির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য ভক্তদের মধ্যে প্রবল হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রত্যেকেরই একটাই উদ্দেশ্য, মায়ের বিদায়ের আগে একবার মায়ের চরণ স্পর্শ করে প্রণাম করে আশীর্বাদ ভিক্ষা করা।

এরপরেই অবশেষে, দেবীর প্রতিমা যখন ধীরে ধীরে জলের মধ্যে বিলীন হতে শুরু করে, তখনও মানুষের কণ্ঠে ‘বোল্লা মা কি জয়’-এর ধ্বনি থামেনি। একইসঙ্গে ভক্তদের মানত নিবেদনের প্রতীক স্বরূপ হাজার হাজার মানতকালী প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিসর্জনপর্ব শেষ হওয়ার পর পুকুর থেকে পবিত্র জল এনে মন্দির চত্বর ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়।

মেলা কমিটির এক কর্মকর্তা অর্ঘ্য সরকার বলেন, ‘এবারের মেলা পরিচালনায় আমাদের সামান্য কিছু ত্রুটি ছিল। আগামী বছর পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আরও নিবিড় সমন্বয় করে একটি সুষ্ঠু ও সুচারু আয়োজন করার চেষ্টা করব।’

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

More like this
Related

Cooch Behar | কুকুর ধরতে পুরসভাকে চিঠি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, পরিকাঠামো নেই, সাফ কথা রবির

কোচবিহার: হাসপাতাল চত্বর থেকে পথকুকুরদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য...

Dinhata | ঐতিহ্যের চালন–কুলো কেনেন আধুনিক বাঙালিও

দিনহাটা: মেয়ের বিয়ে। তাই প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস ভালো করে...

Cooch Behar | ১১ জন বাংলাদেশির ‘দেশ’ নয়, ঠাঁই হল হাজতে

কোচবিহার: বাংলাদেশে ফেরত যেতে চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া ১১...

Haldibari | চেয়ারম্যান পদে শংকর ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে অমিতাভ, হলদিবাড়ি পুরসভায় ‘বিদ্রোহ’

হলদিবাড়ি: দলের নির্দেশ অমান্য করে হলদিবাড়ি পুরসভার নতুন বোর্ডে...