পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম থানার ওসি সৎকর স্যাংবো বোল্লা রক্ষাকালী পুজো কমিটির ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুজোর সময় পশু বলির জন্য প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দেশ লঙ্ঘন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দেবাশীষ কর্মকার (সভাপতি), রাজীব কর্মকার (সহ-সভাপতি), মানস রঞ্জন চৌধুরী (ম্যানেজার), অর্ঘ্য সরকার (সভাপতি, ট্রাস্টি বোর্ড), নিত্য রঞ্জন কর্মকার (সম্পাদক, ট্রাস্টি বোর্ড) এবং অর্ঘ্যজিত সেন (কোষাধ্যক্ষ, ট্রাস্টি বোর্ড)। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২২ থেকে ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই পুজোতে পশু বলির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি এবং বিপুল সংখ্যক বলি দেওয়া হয়েছে।
গত ৬ নভেম্বর বালুরঘাট মহকুমা অফিসার পুজো কমিটির সঙ্গে এক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, আইন মেনেই সব করতে হবে। এমনকী কলকাতা হাইকোর্টও বলির জন্য নিয়ম মেনে চলার জন্য পুজো কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে অভিযুক্তদের দাবি ভিন্ন। মানস রঞ্জন চৌধুরী এবং অর্ঘ্য সরকার জানান, প্রশাসনের সব নির্দেশ মেনেই বলি দেওয়া হয়েছিল। তারা বলেন, ‘বলির সংখ্যা কমানো হয়েছিল এবং বলির স্থান ঘিরে সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল। সোপ ট্যাঙ্কির মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হয় এবং বলির পর মৃতদেহ সঠিকভাবে প্যাকেজিং করা হয়।’ তাদের মতে, সমস্ত কাজ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। এরপরেও সুয়োমোটো মামলা কেন হলো তারা বুঝতে পারছেন না।
জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানান, ‘হ্যাঁ একটা সুয়োমোটো মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের পর যদি সব ঠিকঠাক থাকে তাহলে বিষয়টি ক্লোজড হয়ে যাবে।’ পতিরাম থানার ওসি সৎকর স্যাংবোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। মেলা শেষ হওয়ার পরপরই দায়ের করা এই সুয়োমোটো মামলা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বোল্লা রক্ষাকালী পুজো এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় অনেকেই হতাশ। প্রশাসন এবং পুজো কমিটির মধ্যে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে কী পরিণতি নেয়, তা নিয়ে নজর রাখছেন এলাকার মানুষ।

