উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঝটকা সামলে উঠতে না উঠতেই ফের সীমান্তে চক্রান্তের ছক কষছে পাকিস্তান! শুক্রবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা জেলায় ভারতীয় আকাশসীমায় একটি সন্দেহজনক ড্রোনের (Border Drone Alert) অনুপ্রবেশ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পরপরই শনিবার সকাল থেকে উপত্যকার কিশতেওয়ারে শুরু হয়েছে জঙ্গি দমনের জোরদার লড়াই।
সাম্বায় ড্রোন হানা
সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত ঠিক ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ জম্মুর সাম্বা (Samba Sector)-র রামগড় সেক্টরের রত্নপুর গ্রামের আকাশে একটি রহস্যময় ড্রোনকে উড়তে দেখেন স্থানীয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। ড্রোনটি বেশ কিছুক্ষণ ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর চক্কর কাটে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা টের পেতেই কয়েক মিনিটের মধ্যে তা পুনরায় সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়।
সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্রশস্ত্র, আইইডি বিস্ফোরক কিংবা মাদক পাচার করার পুরোনো অভ্যাস রয়েছে পাকিস্তানের। সেই আশঙ্কায় রাত থেকেই পুরো রত্নপুর গ্রাম ও সংলগ্ন জঙ্গল ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন জওয়ানরা। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু উদ্ধার হয়নি।
কিশতেওয়ারে জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই
ড্রোনের আনাগোনার মধ্যেই শনিবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কিশতেওয়ারের (Kishtwar Terror Fight) ডোলডাম এলাকা। গোপন সূত্রে জঙ্গি উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে নামে নিরাপত্তা বাহিনী। এলাকা ঘিরে ফেলতেই জঙ্গিরা জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও। বর্তমানে কিশতেওয়ারের গভীর জঙ্গলে জঙ্গিদের ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের বিশেষ দল। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় চলছে।
গত বছর পহেলগাম হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে সীমান্তের ওপারে জঙ্গি লঞ্চপ্যাডগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ধাক্কা সত্ত্বেও পাকিস্তান যে শিক্ষা নেয়নি, শুক্রবার রাতের ড্রোন অনুপ্রবেশ তারই প্রমাণ। সীমান্তে ড্রোন নজরদারি বাড়িয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

