পরাগ মজুমদার, বহরমপুর : আগেই ইঙ্গিত মিলছিল। অবশেষে শনিবার সেই ইঙ্গিতেই সবুজ সংকেত দিলেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে রাজনীতিবিদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)। এদিন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর শক্তিপুরের বাড়ি থেকে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বুকে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলেন তিনি। দলের প্রতি তাঁর বেড়ে ওঠা ক্ষোভও চেপে রাখলেন না।
আগামী ২২ ডিসেম্বর, বহরমপুরে প্রকাশ্য জনসভা করে তাঁর নতুন দলের ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিনে স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে হুমায়ুন স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি নতুন দল গড়ছি। আমি সেই দলের চেয়ারম্যান হব। ডিসেম্বরের ২২ তারিখ বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড়ে ৫০ হাজার মানুষের সামনে নতুন দলের ঘোষণা করব। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার ছাড়াও হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া থেকেও বহু কর্মী ও নেতারা ওই জনসভায় যোগ দেবেন।’
তাঁর এই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে জেলাজুড়ে। সচেতন মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় আগামীদিনে মুর্শিদাবাদের বুকে হুমায়ুন নিজেকে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। একইসঙ্গে কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গেও তাঁর সংঘাত বজায় রেখে, নিজের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব তৈরি করতে চাইছেন। যা এই জেলা তথা রাজ্যের বুকে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে সবই সম্ভব। আমি আর কংগ্রেসেও ফিরতে চাই না। নতুন দল করে নতুন করে লড়াই করতে চাই। মনে রাখবেন, আমি যখন নতুন দল নিয়ে মাঠে নামব বলেই ঠিক করেছি, তখন ট্রফি জেতার জন্যই নামছি। ট্রফি জিততে হলে, নাইজিরিয়ান প্লেয়ার আনতে হয়। আমাকেও আনতে হবে।’
আসন্ন বিধানসভা ভোটে তিনি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে লড়ে রবিউল আলমকে কমপক্ষে ৩০ হাজার ভোটে হারাবেন বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। ক্ষুব্ধ হুমায়ুন এদিন নিজের দলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমি বরাবরই দলের নির্দেশ মেনেই কাজ করেছি। শীর্ষ নেতৃত্বের ঘরোয়া বৈঠক নিয়েও কখনও মুখ খুলিনি। তা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্ব আমাকে নানাভাবে অপমান ও হেনস্তা করেছে। দলকে একাধিকবার জানানোর পরেও দলের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তবে অতীতে হুমায়ুনকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, দলে থেকে বেফাঁস মন্তব্য দল সহ্য করবে না। তবে তার পরেও হুমায়ুন স্বমূর্তিতেই ছিলেন। এখন আসন্ন ২২ ডিসেম্বর, তিনি বহরমপুরের বুকে কতটা সফলতার সঙ্গে তাঁর নতুন দলের ঘোষণা করতে পারেন, সেটাই দেখার। চ্যালেঞ্জ খোদ হুমায়ুনের কাছেও।

