শীতলকুচি: শুক্রবার সাত সকালে শীতলকুচি ব্লকের (Sitalkuchi) দেবনাথপাড়া এলাকায় একটি ডাম্পার পার হওয়ার সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু (Bridge Collapse)। বিকট শব্দে সেতুর একাংশ ধসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অল্পের জন্য বড়সড় প্রাণহানি না ঘটলেও, এই ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে একটি বালি বা পাথর বোঝাই ভারী ডাম্পার সেতুটি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। ডাম্পারটি যখন সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছায়, তখনই অতিরিক্ত ওজন সহ্য করতে না পেরে সেতুর মূল কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। ডাম্পারটি কার্যত ধ্বংসস্তূপের ওপর আটকে যায়। দুর্ঘটনার সময় আশেপাশে সাধারণ মানুষের ভিড় কম থাকায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি, তবে স্থানীয়দের মতে, এটি ব্যস্ত সময় হলে বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।
সেতুটি ভেঙে পড়ার ফলে সংশ্লিষ্ট রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। সেতুর দু’পাশে আটকে পড়ে বহু ছোট-বড় গাড়ি, ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। নিত্যযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শীতলকুচি থানার পুলিশ (Police) ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। এলাকাটি ঘিরে ফেলে বিকল্প পথে যান চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই সেতুর বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন দেবনাথপাড়ার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সেতুটি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল অনেক আগে থেকেই। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপরন্তু, দুর্বল সেতু দিয়ে কেন এত ভারী ডাম্পার চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুলেছেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে পুলিশ ও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা সেতুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছেন। বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে এবং গ্রাম্য রাস্তার সেতুগুলোতে ভারী যান চলাচলের ওপর কড়া আইনি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে হবে।

