রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: দার্জিলিংয়ের পর্যটন মানচিত্রে অত্যন্ত পরিচিত নাম ইন্দ্রাণী ফলস (Indreni Falls)। প্রচুর পর্যটক দেখতে আসেন এই জলপ্রপাত। কিন্তু বহুদিন জায়গাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জলপ্রপাতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাওয়ার জন্য একমাত্র সেতুটি ভাঙা। দ্রুত এই জলপ্রপাত সংরক্ষণ এবং নতুন সেতু তৈরির দাবি তুলে শনিবার প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিলেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পর্যটকরা এদিন বলেন, অবিলম্বে রাজ্য সরকার এবং গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) এই বিষয়ে উদ্যোগ নিক। জিটিএ-র মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেছেন, ‘ইন্দ্রাণী ফলসে সেতু তৈরির জন্য ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। ডিপিআর হয়ে গেলে অনুমোদনের জন্য অর্থ দপ্তরে পাঠানো হবে। ছাড়পত্র মিললে কাজ শুরু হবে।’
পর্যটকদের কাছে দার্জিলিং থেকে ৮ কিলোমাটির দূরে সোনাদার এই জলপ্রপাত অত্যন্ত পরিচিত। অনেকে একে রামধনু জলপ্রপাত হিসাবেও চেনেন। কিন্তু এই পর্যটনস্থলটি দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকছে। কয়েক মাস আগে ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের আহ্বায়ক অজয় এডওয়ার্ড এলাকায় গিয়ে সংযোগকারী সেতু পুনর্নির্মাণের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এই কাজ প্রশাসনের। কিন্তু প্রশাসন সেই কাজ করতে না পারায় আমরা দায়িত্ব নিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় এখানে সেতু তৈরি করতে রাজি।’ এরপরই জিটিএ জানিয়ে দেয়, সেতু তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে সেতুটি তৈরি করা হবে।
তবে তারপরও কাজ শুরু না হওয়ায় শনিবার স্থানীয় বাসিন্দারা ইন্দ্রাণী ফলসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইন্দ্রাণী ফলস সংরক্ষণ সমিতির সভাপতি বসন্ত রাই বলেন, ‘কংক্রিটের সেতু দীর্ঘদিন বেহাল। গত বছর একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি হয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ যাতায়াত করতেন। সেই সাঁকোটিও গত ৪ অক্টোবরের দুর্যোগে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গত এক-দেড় মাসে গ্রাম পঞ্চায়েত, জিটিএ, রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে দ্রুত জলপ্রপাত সংরক্ষণ এবং সেতু তৈরির দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে স্থানীয়রা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, পর্যটকরা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’ এদিন শিলিগুড়ি থেকে মোটরবাইক নিয়ে এসেছিলেন সুমিত বসু। তিনি বললেন, ‘আগেও একাধিকবার এসেছি। ইন্দ্রাণী ফলসে রামধনু দেখার মজাই আলাদা। কিন্তু গত কয়েক বছর সেতু সহ আশপাশের এলাকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পর্যটকরা এসে দাঁড়ানোর জায়গা পান না। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’

