সিদ্ধার্থশংকর সরকার ও কল্লোল মজুমদার, পুরাতন মালদা: দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিবাদ চলছিল। তবে তা সামলেও সম্পর্ক কোনওমতে টিকে ছিল। কিন্তু এবার অন্য ঘটনা ঘটল।
ভাই বাইকের চাবি না দিতে চাওয়ায় দাদা তাকে লক্ষ্য করে গুলি (Shot) চালায় বলে অভিযোগ। শনিবার সন্ধ্যায় পুরাতন মালদা (OLD MALDA) শহরের মঙ্গলবাড়ি খইহাট্টা এলাকার ঘটনা। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক। জখম ব্যক্তিকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলার রিমি দাস পাল বলেন, ‘এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এভাবে চড়াও হওয়ার ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। আমরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’ পারিবারিক বিবাদের কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন। ওই ব্যক্তি কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পেল তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। জখম ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
দুই ভাই পাশাপাশি বাড়িতে থাকে। দাদা সুদের কারবার করে। দুজনের মধ্যে বনিবনা না থাকলেও বড় অঙ্কের লটারি জেতার সুবাদে সে কিছুদিন আগে ভাইকে সাহায্য করে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে মোটরবাইকের চাবি চাইতে শুরু করে। ভাই তা দিতে অস্বীকার করলে দুজনের মধ্যে ব্যাপক বচসা হয়। বিবাদ ক্রমেই বাড়তে থাকে। সেই সময় দাদা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ভাইয়ের বুকে গুলি চালিয়ে পালায় বলে অভিযোগ। জখম ব্যক্তির মেয়ের কথায়, ‘বাবা ঘরে শুয়ে ছিল। জেঠু এসে বাবার কাছে বাইকের চাবি চাইতে শুরু করে। বাবা দিতে রাজি না হওয়ায় দুজনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় জেঠু বাবাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।’
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের ভূমিকায় বিরোধীরা সরব হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু মালদাই নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গই আগ্নেয়াস্ত্রের ভাণ্ডার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবই শাসকদলের মদতে হচ্ছে। সব জেনেও পুলিশকর্তারা ঘুমোচ্ছেন।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র বললেন, ‘যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে, পুলিশ ততদিন তাদের তাঁবেদারি করবে। আর মালদা সহ গোটা রাজ্যে দুষ্কৃতীদের দাপট এভাবেই বাড়বে।’
শাসক শিবির বিরোধীদের অভিযোগ মানতে চায়নি। জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, ‘গোটা ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে আমরা পুলিশ–প্রশাসনের কাছে জোরালো আবেদন করেছি। জেলায় কী করে আগ্নেয়াস্ত্র আসছে তা পুলিশকে খতিয়ে দেখতে হবে।’

