অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: এবারের নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ইস্যু কী? কী মাথায় রেখে ভোট হচ্ছে এবার? একগাল হেসে তিনি উত্তরে বলেছেন, ‘শুধু সাধারণভাবে জীবনযাপন করা। জেলার অন্যত্র যেমন ভালো রাস্তা, ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা রয়েছে, তেমনটা যেন আমাদের এখানেও পাওয়া যায়।’ বক্তা বক্সা (Buxa Election) পাহাড়ের দারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আশিস লেপচা। কুড়ির গণ্ডি পার করা আশিসদের মতো নতুন প্রজন্ম নয়, প্রবীণরাও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন সুদিনের আশায়। তবে সুদিন মানে বড় কিছু নয়, ভালো যোগাযোগ, ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা। যদিও তা কি আদৌ মিলবে, পাহাড়ের মাথায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে সংশয়ের কথা বললেন অনেকেই। বুঝতে অসুবিধা হয় না অতীত অভিজ্ঞতার থেকেই তাঁরা এমন কথা বলছেন।
তবুও আবার ভোটের লাইন হয়েছে। ভোটও হয়েছে উৎসবের আমেজে। বক্সা পাহাড়ে নির্বাচন নিয়ে সমস্যা হয় না। কোনও অশান্তি শোনা যায় না। এবছরও সেই ট্রেন্ড বজায় থাকল পাহাড়ের তিনটি বুথে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের কথায়, জেলার অন্য জায়গায় আধুনিক পরিষেবা দেওয়া হোক, তাতে সমস্যা নেই। তবে বক্সাও যেন পিছিয়ে না থাকে। বক্সা ফোর্ট, আদমা ও চুনাভাটি- তিনটি বুথেই এদিন ভালো ভোট হয়েছে। আদমা ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৮৯ শতাংশ ও বক্সা ফোর্ট বুথে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। চুনাভাটির হিসেব পাওয়া না গেলেও, শতাংশের হিসেবে খারাপ নয় বলে মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এদিন ভোটের হারে নতুন রেকর্ড হয়েছে। ভোট যেমন বেশি পড়েছে, তেমনই প্রত্যাশাও বড়। বক্সা ফোর্টের বাসিন্দা পেমা দোজি ডুকপা, লেপচাখার বাসিন্দা পিনচো ডুকপাদের মতে, পাহাড়ের সবথেকে বড় দাবি রাস্তা।


বক্সা পাহাড়ে যেতে হলে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়। এরপর হাঁটাপথে সব গ্রামে যেতে হয়। পাহাড়ের বাসিন্দাদের দাবি, বক্সা ফোর্ট পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের রাস্তা। এখানে ভালো চিকিৎসা পরিষেবা না থাকায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে চ্যাংদোলা করে নীচে নামাতে হয়। বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাস্তা তৈরি হলে এই সমস্যা দূর হবে। মসৃণ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই আশাতেই এবারও ভোট উৎসবে শামিল বক্সা।
অন্যদিকে, পাহাড়ে ভোট করাতে যাওয়া ভোটকর্মীরাও নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন। আদমার ভোটকর্মী তুহিনকুমার সাধু, বিতান সিংহদের বক্তব্য, কোনও পাহাড়ি জায়গায় ভোট করানোর অভিজ্ঞতা এবার তাঁদের প্রথম হল। পাহাড়ি রাস্তায় হেঁটে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো যেমন চ্যালেঞ্জের ছিল, তেমনই সেখান থেকে নেমে আসাও নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। একই কথা শুনিয়েছেন, বক্সা ফোর্ট বুথের ভোটকর্মী প্রদীপ অধিকারীও।

