শামুকতলা: লোকসভা নির্বাচনের আবহে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল লাগোয়া বুথগুলিতে এখন সবথেকে বড় ত্রাসের নাম ‘বুনো হাতি’। যে কোনো সময় লোকালয়ে হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণীর ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও, গণতন্ত্রের উৎসব যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য বুধবার সন্ধ্যা থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামল বনদপ্তর। মূলত আলিপুরদুয়ার জেলা এবং বিশেষ করে কুমারগ্রাম বিধানসভা এলাকার জঙ্গল ঘেঁষা ভোটকেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে (Buxa Tiger Reserve Polling Booth)।
কুমারগ্রাম বিধানসভা এলাকায় ছিপরা, বড় চৌকির বস, বালাবাড়ি ও শিলটন বনবস্তির মতো অন্তত ৫০টি সংবেদনশীল বুথ রয়েছে, যেখানে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা নিত্যদিনের ঘটনা। আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে এমন বুথের সংখ্যা ১০০-র বেশি। এদিন প্রতিটি বুথে গিয়ে ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সতর্কতামূলক টিপস দেন বনকর্মীরা। হঠাৎ হাতি চলে এলে কী করতে হবে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়েছে।


বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রেঞ্জ অফিসার দেবাশীষ মন্ডল জানিয়েছেন, হাতি মোকাবিলায় বিশেষভাবে তৈরি ‘ঐরাবত’ গাড়ি টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কুইক রেসপন্স টিম তৈরি রাখা হয়েছে। জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদেরও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। বনকর্মীরা ভোটকর্মীদের হাতে তিনটি বিশেষ জরুরি ফোন নম্বর তুলে দিয়েছেন, যাতে বিপদে পড়লে তৎক্ষণাৎ সাহায্য মেলে।
বড় চৌকির বস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার সঞ্জয় সোনার জানান, “জঙ্গলের মধ্যে ডিউটি শুনে প্রথমে খুব আতঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু বনকর্মীরা যেভাবে এসে আশ্বস্ত করেছেন এবং কন্ট্রোল রুমের নম্বর দিয়েছেন, তাতে ভয় অনেকটাই কেটেছে। বনকর্মীরা কাল ভোর ৫টা থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকবেন জেনে আশ্বস্ত বোধ করছি।”
বনদপ্তরের দাবি, বন্যপ্রাণীদের গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে যাতে তারা কোনোভাবেই লোকালয় বা বুথের আশেপাশে আসতে না পারে। ভোটের দিন নির্বিঘ্ন রাখতে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুমও।

