অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: পরিকল্পনা ছিল অনেকদিনের। এবার সেটাই বাস্তবায়নের মুখে। বক্সা টাইগার রিজার্ভে (Buxa Tiger Reserve) চালু হচ্ছে চিতল হরিণ প্রজননকেন্দ্র। সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ওই কেন্দ্রটি চালু হয়ে যাবে। নদিয়া থেকে চিতল হরিণ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সম্প্রতি তার ছাড়পত্র মিলেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নদিয়ার বেথুয়াডহরি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি থেকে ৩০টি চিতল হরিণ এনে প্রজননকেন্দ্রে রাখা হবে। ২ঃ১ এক অনুপাত মেনে ২০টি মাদি হরিণ ও ১০টি মর্দা হরিণ আনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন এনিয়ে বক্সা টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর অপূর্ব সেন বলেন, ‘প্রজননকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা অনেকদিন ধরেই করা হচ্ছিল। সেটার ছাড়পত্র পাওয়া হয়েছে। প্রজননকেন্দ্রে হরিণ জন্মালে সেগুলিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ থাকার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা বহু বছর ধরেই করা হচ্ছে। বাঘের মূল খাদ্য হিসেবে চিতল হরিণও জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে। কয়েক ধাপে বর্ধমানের রমনাবাগান ও নদিয়ার বেথুয়াডহরি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি থেকে চিতল হরিণ এনে জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। তবে বাইরে থেকে এনে বারবার হরিণ ছাড়তে সমস্যায় পড়ছিল বন দপ্তর। বিষয়টি অনেকটা ব্যয়সাপেক্ষও বটে। সমস্যার সমাধানে বক্সায় হরিণ প্রজননকেন্দ্র চালুর ভাবনা শুরু হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ইতিমধ্যেই বক্সা টাইগার রিজার্ভের পশ্চিম ডিভিশনের ২৫ মাইল এলাকা চিহ্নিত করা হয়। সেখানে বড় ঘাস বাগান রয়েছে। এমনকি ওই জাগয়াগটিতে ২ একর জমি চিহ্নিত করে ফেন্সিংও দেওয়া হয়েছে।
সেখানে যেন হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণী আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য ফেন্সিং শক্তিশালী করতে জোর দেওয়া হয়েছে। জলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে। সেখানে জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। পরিকাঠামো আগেই তৈরি থাকলেও এতদিন চিতল হরিণ আনার ছাড়পত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। বর্তমানে সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে। নদিয়া থেকে হরিণ আনার ছাড়পত্র মিলেছে। এপ্রসঙ্গে বক্সা টাইগার রিজার্ভের ডিএফডি হরিকৃষ্ণন পিজে বলেন, ‘হরিণ প্রজননকেন্দ্রটিতে সবসময় বনকর্মীরা নজর রাখবেন। এছাড়াও পশু চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণও থাকবে। ৩০টি হরিণ থেকে প্রজনন হতে হতে যখন ৬০টি হরিণ হবে তখন অর্ধেক হরিণ জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

