CAA Certificate in Hili Border | আশঙ্কা কাটিয়ে এবার খুশির জোয়ার! হিলি সীমান্তে শরণার্থীদের হাতে আসতে শুরু করল সিএএ শংসাপত্র

শেষ আপডেট:

বিধান ঘোষ, হিলি: নাগরিকত্ব নিয়ে আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে অবশেষে খুশির হাওয়া হিলি সীমান্তে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) (CAA) নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি ব্লকের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশকে কিন্তু স্বস্তি দিচ্ছে এই সিএএ-ই (CAA Certificate in Hili Border)। সেখানকার আবেদনকারীদের হাতে আসতে শুরু করেছে বহু প্রতীক্ষিত নাগরিকত্বের শংসাপত্র। ২৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে ইতিমধ্যেই ছয়জন শংসাপত্র পেয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর খারুন, রামকৃষ্ণপুর ও পাঞ্জুল গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে এই শংসাপত্র আসতেই ওপার বাংলা থেকে আসা শরণার্থীদের দীর্ঘদিনের ভয় ও সংশয় দূর হতে শুরু করেছে।

আর এই স্বস্তিকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি (BJP)। সদ্য যাঁরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন, এমন বাসিন্দাদের বুধবার হিলিতে গিয়ে অভিনন্দন জানান বালুরঘাটের (Balurghat) বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ি। বিধায়ক বলেন, ‘ওঁরা ভারতীয় নাগরিক ছিলেন ঠিকই, কিন্তু নথি ছিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওপার থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর তার জেরে ওঁদের হাতে এখন নাগরিকত্বের শংসাপত্র। ভারতীয় নাগরিকের দলে তিনজন যুক্ত হল ভেবে আনন্দ হচ্ছে।’

এদিকে, দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াইয়ের পর নাগরিকত্বের আইনি স্বীকৃতি পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আবেদনকারীরা। তাঁদেরই একজন সান্ত্বনা সরকার। তিনি বলেন, ‘৩৩ বছর আগে দুই সন্তান নিয়ে বাংলাদেশের জয়পুরহাট থেকে ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম ওপারের নিপীড়নের ফলে। তারপর থেকে এখানে বসবাস। সব নথি বানিয়েছিলাম। কিন্তু বহু ঘুরেও ভোটার কার্ড বানাতে পারিনি। সিএএ নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলছিল। সেসব কথায় কান না দিয়ে আবেদন করি। মঙ্গলবার সিএএ শংসাপত্রের মেসেজ পেয়েছি। আমি ভীষণ খুশি।’

তবে, এই প্রক্রিয়াকে স্রেফ নির্বাচনি গিমিক বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অমিত বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, ‘ভোটের আগে সিএএ সার্টিফিকেট দিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। বিধায়ককে সারাবছর দেখা যায় না, সেখানে ভোটের আগে এসে লোক দেখানোর জন্য এখন এই সমস্ত করছেন। আগামীতে ভোটের ময়দানে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করা হবে।’ পালটা অশোকের দাবি, ‘নাগরিকত্বের শংসাপত্র নিয়ে রাজনীতি করতে আসিনি। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথাও বলিনি। ওদের যাকে ভালো লাগে, তাকে ভোট দেবে।’

সবমিলিয়ে নাগরিকত্ব প্রাপ্তি ঘিরে হিলি সীমান্তে এখন খুশির আবহ থাকলেও, তার সমান্তরালে রাজনৈতিক পারদও চড়ছে চড়চড়িয়ে।

Sushmita Ghosh
Sushmita Ghoshhttps://uttarbangasambad.com/
Sushmita Ghosh is working as Sub Editor Since 2018. Presently she is attached with Uttarbanga Sambad Digital. She is involved in Copy Editing, Uploading in website and various social media platforms.

Share post:

Popular

More like this
Related

Prasanta Barman | কমিশনের রাডারেও অধরা প্রশান্ত! নীলবাতি হাঁকিয়ে বিডিও-র অবাধ বিচরণে প্রশ্নের মুখে আইনের শাসন

শুভঙ্কর চক্রবর্তী ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের অন্যরূপ দেখতে...

Leopard Caged | ভোটের মুখে স্বস্তি! ১৭ দিনের টানটান উত্তেজনা শেষে খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ

ফালাকাটা: একদিকে যেমন ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে...

WB Election 2026 | শিলিগুড়ি ছেড়ে ঘরের পথে সাধারণ মানুষ! জনসমুদ্র তেনজিং নোরগে টার্মিনাসে

শিলিগুড়ি: গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে কাজের শহর ছেড়ে ঘরের...