আলিপুরদুয়ার ও শামুকতলা: সামনেই শিক্ষক দিবস। এখন শিক্ষক দিবস মানে যেন একটা ছোট উৎসব। সপ্তাহ ধরে প্ল্যানিং, বন্ধুদের থেকে টাকা তুলে শিক্ষকদের জন্য উপহার কেনা। আজকাল অ্যানিভার্সারি, বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জন্মাষ্টমীর মতোই শিক্ষক দিবসও যেন কেক ছাড়া অসম্পূর্ণ। আর যদি তার সঙ্গে না থাকে বিশেষ থিম, তাহলে তো জমবেই না দিনটি। তাই হাতে ক’দিন সময় থাকতেই, টিউশন শেষে দল করে পড়ুয়ারা ভিড় করছে ‘কেক শপ’ গুলোতে। কেউ পছন্দ করছে তার শিক্ষককে বিশেষ থিম কেক দেবে। কেউ আবার মোবাইলে নিয়ে এসেছে ছবি, দোকানদারকে তা দেখিয়ে বলছে এমন ধরনের কেক তৈরি করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, যাঁরা হোম বেকার রয়েছেন তাঁদের কাছেও বিভিন্ন ধরনের কেকের অর্ডার আসছে। এই যেমন পিউ মল্লিক নিজের বাড়িতেই কাস্টমাইজ কেক তৈরি করেন। তিনি বলছেন, ‘অনেকেই ফোন করে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে কেকের অর্ডার করছেন।’ আরেক কেক মেকার নীলাঞ্জনা দত্তের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল চকোলেট, বেনটো সহ বিভিন্ন কেক এক-দুইদিন হল অর্ডার আসতে শুরু করেছে। চার, পাঁচ, ছয় তারিখের জন্য।


এদিকে, এই শিক্ষক দিবসকে ঘিরে বিভিন্ন কেকের দোকানগুলিতে এখন অফার শুরু হয়েছে। মূলত এক পাউন্ড ও দু’পাউন্ড এছাড়াও বড় কেকগুলির জন্য রয়েছে এই অফার। এক পাউন্ড কেক ২০০ টাকা থেকে শুরু। ১১ হাত কালীবাড়ি সংলগ্ন একটি কেক শপের মালিক অলোকনাথ ঘোষের কথায়, ‘২৮ তারিখ থেকে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে কেকের ওপর অফার শুরু হয়েছে। যা চলবে ৬ তারিখ পর্যন্ত। পড়ুয়ারাই সেগুলো অর্ডার করতে আসছে। এক পাউন্ড কেক ২০০ টাকা থেকে শুরু। গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্ডার বেড়েছে।’
শুধু কেকই নয়, ভিড় জমছে গিফটের দোকানেও। বুধবার নবম শ্রেণির সোনালি কর্মকার শহরের সুপার মার্কেট সংলগ্ন দোকানে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে এসেছিল। সোনালির কথায়, ‘শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে স্যরের জন্য ঘড়ি কিনলাম। প্রতি বছরই স্যরকে উপহার দিই। স্যর আমাদের আশীর্বাদ করেন।’ একই কথা সৌম্যদীপ সরকারেরও। সে বলল, ‘প্রতি বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। এবার ব্যাচ থেকে স্যরকে একটা জামা উপহার দেব তাই দোকানে এসেছি।’ আর এসবের মাঝে গিফট ও স্টেশনারি দোকানগুলোতেও দেদার বিক্রি হচ্ছে ফোটোফ্রেম, ঘড়ি, ডায়েরি, পেন সহ নানা উপহার সামগ্রী। যা ১০০-৫০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে দোকানদাররা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে ফোটোফ্রেম ও পেনের চাহিদাই সর্বাধিক। সব মিলিয়ে হাতে একটা দিন থাকলেও, ছাত্রছাত্রীরা কিন্তু এখন থেকেই শিক্ষক দিবসে নিজেদের শিক্ষকদের কী দেবে তার প্ল্যান করে রাখছে।
এবিষয়ে খোয়ারডাঙ্গা হাইস্কুলের শিক্ষক নিরঞ্জন দেবনাথের প্রতিক্রিয়া, ‘শিক্ষক দিবসে কেক কাটার প্রথা নেই। তবে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি সম্মান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পড়ুয়াদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ।’

