নিশিগঞ্জ: দুয়ারে ভোটের আবহে দলীয় পতাকায় মোড়া ঝাঁ চকচকে রোড শো, থিম সং, রঙিন বেলুন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়, কোনও দিক থেকেই প্রচারে খামতি নেই। তারপরেও ভোটের অঙ্ক নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাঁজ কপাল ছাড়ছে না প্রার্থীদের। বড় জনসভায় ভিড় উপচে পড়লেও শেষলগ্নে মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক যুযুধান শিবিরগুলির ভরসা সেই সাবেকি কৌশল। বুথ ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি ভোটারের দরজায় কড়া নাড়ছেন নেতা-কর্মীরা। ঠিক যেন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই ‘অবনী, বাড়ি আছো?’-র ঢঙে ভোটারদের ‘মন কি বাতে’র অন্দরে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা।
গ্রামের মেঠো পথ থেকে শহরের অলিগলি লিফলেটকেই অন্যতম ভোটের এক হাতিয়ার করে ঘুরছেন দলের নেতা-কর্মীরা। চায়ের আড্ডা থেকে গৃহস্থের উঠোন সর্বত্রই চলছে নিবিড় জনসংযোগ। কোথাও আবার সেই জনসংযোগের অংশ হয়ে উঠছে ভোটারদের হেঁশেলের রাঁধা-বাড়া। আবার কোথাও স্থানীয়দের সঙ্গে রাস্তা তৈরির মাঝে কোদাল হাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ প্রার্থীর। পঞ্চায়েত বা পুরভোটের কায়দায় এই ‘ডোর টু ডোর’ প্রচারেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন প্রার্থীরা।


মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রে এবার মোট ১৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের নজর তৃণমূলের সাবলু বর্মন, বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক এবং সিপিএমের খগেনচন্দ্র বর্মন, এই তিন প্রার্থীর দিকেই। দেওয়াল লিখনের পাশাপাশি তাঁরা সকলেই বাড়ি বাড়ি প্রচারে বাড়তি জোর দিয়েছেন। নিশিগঞ্জের বিজেপি নেতা উত্তম শীল বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে প্রচার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এখন তৃতীয় দফায় বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছি। এতে ভোটারদের সাড়া ভালোই মিলছে।’ অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা তথা নিশিগঞ্জ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রজনীকান্ত বড়ুয়ার বক্তব্য, ‘আমরা সারাবছর মানুষের পাশে থাকি। এখন ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটপ্রার্থনা করছি। মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কই আমাদের শক্তি।’ সিপিএম নেতা দিলীপ বিশ্বাসের সংযোজন, ‘সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার ভোট প্রচারে আসবেন। তবে আমরাও মানুষের বাড়ি গিয়ে রাজ্যের হাল ফেরাতে লালকে বেছে নেওয়ার আহ্বান করছি।’ সবমিলিয়ে মাথাভাঙ্গায় এখন প্রচারের আসল লড়াই মাটি থেকে মনের কাছাকাছি। ভোটারের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার এই ছদ্ম প্রতিযোগিতাই ঠিক করে দেবে শেষ হাসি কে হাসবেন।

