কিশনগঞ্জ: নেপাল সীমান্ত (Nepal Border Smuggling) সংলগ্ন কিশনগঞ্জ জেলার ৩২৭-ই জাতীয় সড়ক এবং ঠাকুরগঞ্জ ও গলগলিয়া (Galgalia Checkpost) এলাকায় কয়লা মাফিয়াদের (Coal Mafia) রমরমা কারবার রুখতে ময়দানে নামল সিবিআই। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি দল কিশনগঞ্জে পৌঁছে ঠাকুরগঞ্জ ও গলগলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় (Kishanganj CBI Raid)। এরপরই গলগলিয়া সীমা শুল্ক দপ্তর বা কাস্টমস অফিসে (Customs Department) হানা দেন গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় এই তৎপরতায় জেলার পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, কয়লা মাফিয়ারা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, স্থানীয় কাস্টমস ও পুলিশ প্রশাসনের একাংশের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই এই পাচারচক্র ফুলেফেঁপে উঠেছে। জনৈক আধিকারিক জানিয়েছেন, অবৈধ কয়লা পাচারের পাশাপাশি এখানে একটি শক্তিশালী ‘এন্ট্রি মাফিয়া’ চক্র সক্রিয়। এর আগে বিহারের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাও ১২ জন মাফিয়ার নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। তৎকালীন পুলিশ সুপারের আমলে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও, বর্তমান পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সিবিআই-এর আচমকা আগমনে জেলা পুলিশের অন্দরমহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারই পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার নিজে গলগলিয়া চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন। একদিকে সিবিআই-এর তদন্ত এবং অন্যদিকে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান—সব মিলিয়ে সীমান্ত এলাকায় পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি চাপ তৈরি হয়েছে। গবাদি পশু ও অন্যান্য সামগ্রী পাচারের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের তালিকাও এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে।

