উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের (BDO Prashanta Barman) বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ পুলিশ। সূত্রের খবর, বিডিওর আগাম জামিনের বিরোধিতায় উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। কিন্তু সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বারাসাত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন বিডিও। তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে আদালতও। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিডিওর আগাম জামিনের বিরোধিতায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে পুলিশ।
উচ্চ আদালতে মামলা প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে জানা গেছে, বারাসাত আদালতে (Barasat Court) বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবী জানিয়েছেন, ‘ঘটনার দিন প্রশান্ত বর্মন নিউটাউনের আবাসনে ছিলেন না। ছিলেন একটি গেস্ট হাউসে। তার একটি রশিদ দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু পুলিশের দাবি, রশিদটি ভুয়ো। সেই প্রমাণ নিয়েই আগাম জামিনের বিরোধিতায় হাইকোর্টের দুয়ারে বিধাননগর পুলিশ(Police)। পাশাপাশি পুলিশের আরও দাবি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিডিওর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে। ঘটনার দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ আদালতে মিথ্যা কথা বলেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের নীলদা পোস্টঅফিস এলাকার দিলামাটিয়া এলাকায় বাসিন্দা ছিলেন নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা। তাঁর সোনার দোকান ছিল দত্তাবাদে। প্রায় ১৫ বছর ধরে দত্তাবাদে দোকান ভাড়া নিয়ে তিনি ব্যবসা করতেন। অভিযোগ, চুরি যাওয়া সোনার গয়না ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দোকানে বিক্রি করা হয়েছিল। সে সংক্রান্ত খোঁজখবর নিতেই গত ২৮ অক্টোবর, নীলবাতি গাড়ি নিয়ে দত্তাবাদের গয়নার দোকানের সামনে আসেন বিডিও। ওই গাড়ি থেকেই নাকি নামতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন বলেই দাবি স্বর্ণব্যবসায়ীর পরিবারের। ওই গাড়িতে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বিডিওর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে। পরদিন নিউটাউনের যাত্রাগাছির বাগজোলা খালপাড় এলাকার ঝোপ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ছবি দেখে দেহ শনাক্ত করে পরিবার। এই ঘটনার পর স্বপন কামিল্যার পরিবার দাবি করে, তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। যদিও ঘটনার সঙ্গে নিজের যোগ অস্বীকার করেছেন বিডিও।

