সামসী: রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিস ড. স্বপন সরেনের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Chanchal Super Specialty Hospital) তৈরি হলো এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। পরিদর্শনের খবর আসতেই বছরের পর বছর ধরে ‘অবহেলিত’ হাসপাতালের ভোলবদল দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসকদের আধিক্য আর ঝকঝকে পরিকাঠামো দেখে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় আধিকারিকের হাতে ফুল-মিষ্টি তুলে দিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ জানান তাঁরা।
শনিবার রাতে মালদার একাধিক হাসপাতাল পরিদর্শনে বের হন ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিস ড. স্বপন সরেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি এবং হাসপাতাল সুপার সুমিত তালুকদার। অভিযোগ উঠেছে, এই পরিদর্শন উপলক্ষেই শনিবার সকাল থেকে চাঁচল হাসপাতালের চিত্র আমূল বদলে যায়। সাধারণ দিনে যেখানে মাত্র ২-৩ জন চিকিৎসকের দেখা পাওয়া দুষ্কর, সেখানে এদিন উপস্থিত ছিলেন ৫০ জন চিকিৎসক! প্রতিদিনের চেনা দুর্গন্ধ উধাও হয়ে গিয়ে হাসপাতাল হয়ে ওঠে ঝকঝকে। এমআরআই (MRI) বা সিসিইউ (CCU) পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ থাকলেও, এদিন সব বিভাগকেই সচল দেখানোর তোড়জোড় চলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিকারিকের চোখে ধুলো দিতেই এই ‘মেকআপ’। পরিদর্শন শেষে আধিকারিক বেরোনোর সময় বাসিন্দারা তাঁকে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে স্বাগত জানান। তাঁদের কথায়, “এই পরিষেবা যদি বছরের ৩৬৫ দিন থাকত, তবে আমাদের বাইরের হাসপাতালে দৌড়াতে হতো না।” পরিদর্শনের দিন এই ‘লোক দেখানো’ ব্যবস্থার মাধ্যমেই কি প্রকৃত দুর্দশা আড়াল করা হচ্ছে—প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
সামনে বিধানসভা নির্বাচন, তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদও চড়ছে। বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ শর্মার দাবি, এটি স্রেফ ‘লোক দেখানো নাটক’। ভোটের আগে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। কংগ্রেস নেতা আনজারুল হক অভিযোগ করেন, নামেই সুপার স্পেশালিটি হলেও বাস্তবে এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি অচল এবং চিকিৎসক-নার্সের তীব্র অভাব। যদিও জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে সব পরিষেবা চালু হচ্ছে এবং বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
ডেপুটি ডিরেক্টর ড. স্বপন সরেন হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতির প্রশংসা করলেও কিছু ঘাটতি থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে স্থায়ী পরিষেবার বিষয়ে মেলেনি কোনও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি।

