উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের সিংতারাই এলাকায় বেদান্ত থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Vedanta Boiler Blast) ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ২৩। গত ১৪ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণের দরুন জখম ১২ জন শ্রমিক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রধান বয়লার পরিদর্শক (Chief Boiler Inspector) একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেখানে বিস্ফোরণের মূল কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে:


- অতিরিক্ত জ্বালানি সঞ্চয়: বয়লার ফার্নেসের ভেতরে অতিরিক্ত জ্বালানি জমা হওয়ায় চাপের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে।
- কাঠামোগত ব্যর্থতা: উচ্চ চাপের কারণে নিচের একটি পাইপ স্থানচ্যুত হয়, যার ফলে পুরো কাঠামোটি ভেঙে পড়ে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
- তাপ নির্গমন: শক্তি জেলার ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তপ্ত শিখা ও প্রবল চাপে শ্রমিকরা পালানোর সুযোগটুকুও পাননি।
পুলিশ সুপার প্রফুল্ল ঠাকুরের (Prafull Thakur) নির্দেশে ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে এই মামলায় নাম রয়েছে: অনিল আগরওয়াল (পরিচালক, বেদান্ত), দেবেন্দ্র প্যাটেল (কোম্পানি ম্যানেজার) এবং আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় পাওয়ার প্ল্যান্টের এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
আজ, ১৮ এপ্রিল একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। এই বিশেষ দলটির তদন্তের ভিত্তিতেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হবে এবং এই গাফিলতির জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে রায়পুর ও রায়গড় মেডিকেল কলেজে আহতদের চিকিৎসা চলছে।

