পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: গ্রাম থেকে বেরিয়ে তিনবার কুড়ুম নদী হয় হেঁটে নয়তো বাইকে পার হয়ে তারপরও সাঁকো পর্যন্ত দূরত্ব ৫০০ মিটার। এরপর প্রাণ হাতে নিয়ে ভাঙাচোরা সাঁকো পেরিয়ে সীমান্ত গেট আরও ৫০০ মিটার। সেই গেট পেরিয়ে সীমান্ত সড়ক ধরে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ঝাপরতলা বিএফপি স্কুল পর্যন্ত দূরত্ব দেড় কিলোমিটার। এভাবেই ভোট দিতে যেতে হবে ছিট সাকাতি গ্রামের (Chhit Sakati Voting Struggle) বাসিন্দাদের। প্রশাসনের খাতায় জেলার সবচেয়ে দুর্গম বুথ এলাকা এটাই।
জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) সদর বিধানসভার দক্ষিণ বেরুবাড়ির সাতকুড়া বাজার থেকে ঝাপরতলা বিএসএফ ক্যাম্প এবং ৪ নম্বর সীমান্ত গেটের দূরত্ব সাড়ে ৩ কিলোমিটার। কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভারতীয় গ্রাম ছিট সাকাতি। দেড় বছর আগেও গেট দিয়ে গ্রামের ৫০০ মিটার দূরে কাঠের সাঁকো ছিল যাতায়াতের জন্য। বর্ষায় কুড়ুম নদীর জলের তোড়ে সেই সাঁকো ভেঙে যায়। এরপর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসী কোনওমতে বাঁশ দিয়ে চলাচলের সাঁকো বানালেও তা খুবই বিপজ্জনক। কিন্তু কুড়ুম নদী নিজের গতিপথ বদলে সাঁকোর পরও নিজের শাখাপ্রশাখা তৈরি করেছে। ফলে সেখানেও বাঁশ দিয়ে চলাচলের আরও একটি বিপজ্জনক সাঁকো বাসিন্দারা নিজেরাই বানিয়েছেন। কুড়ুম নদী যেভাবে গ্রামে যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটিকে গ্রাস করেছে, তাতে পায়ে হেঁটে কোনওমতে চলাচল করলেও বাইক নিয়ে যাতায়াত করা যায় না।


তহিরুল সরকার নামে এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘আমাদের বাইকগুলি ঝাপরতলা বিএসএফ গেট ৪ নম্বরের কাছেই দিনরাত পার্কিং করা থাকে। কারণ সাতকুড়াতে বাজারহাট করি। নদীতে জল কম থাকলে বাইক নিয়ে পারাপার করা যায়। তবে কুড়ুম ও তার শাখাপ্রশাখা পেরোতে গিয়ে তিনবার বাইক নিয়ে নদীতে নামতে হয়। বাইকে পণ্যসামগ্রী থাকলে যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ বাইক চলাচলের কাঁচা রাস্তাটি ধীরে ধীরে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।’
ছিট সাকাতির বাসিন্দা আখারুল সরকারের আক্ষেপ, ‘গ্রামের ছেলেমেয়েরাও স্কুলে যাচ্ছে নদী পার হয়ে। অনেকে একটি পোশাক পরে নদী পেরিয়ে এপারে এসে স্কুলড্রেস পরছে। কিন্তু এভাবেই চলতে হবে। এখন ভোট এলেও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের কারও দেখা নেই। কাউকে বলেও কাজ হয় না।’
স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ সরকার বলছেন,‘আমরা কী পরিস্থিতির মধ্যে আছি, তা রাজনৈতিক দলগুলি ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানে। অথচ জেনেও আমাদের গ্রামের রাস্তা ও সেতু তৈরি হচ্ছে না। এখনও গ্রামে কোনও দলই প্রচারে আসেনি। আমরাই সাতকুড়া বাজারে গেলে যাঁরা প্রচার করেন, সেটা শুনে গ্রামে ফিরে আসি।’
তহিরুল সরকার নামে স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, ‘গ্রামের এই পরিস্থিতির সমাধানে গত দেড় বছর ধরে বিডিও, জেলা শাসককে লিখিতভাবে জানিয়েও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। প্রশাসনিক পর্যায়ে এলাকা পরিদর্শন করার পরেও কিছুই হয়নি। আসলে এখানে যে মাত্র ৭৫টি ভোট।’
জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ দাস বলছেন,‘আমি জানতাম না। তবে কথা দিচ্ছি, আমি জিতে এলে ছিট সাকাতির সেতু ও রাস্তা করে দেব।’
বিজেপির (BJP) প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারীর কথায়, ‘সার্বিক সমস্যা সম্পর্কে অবগত রয়েছি। রাজ্যে আমাদের সরকার গঠন হলে নিশ্চিতভাবে দক্ষিণ বেরুবাড়ির সমস্যার সমাধান করব।’
এনিয়ে জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক সন্দীপ ঘোষ বলছেন, ‘ভোটদানে যেতে ভোটারদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

