উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন গেম শিশুদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণের বিষয়। কিন্তু অনেক সময় এই বিনোদন আসক্তিতে পরিণত হয়ে যায়, যা সন্তানের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বকাঝকা বা ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে কীভাবে সন্তানের অনলাইন গেমিংয়ের অভ্যাস বদলানো যায়, তার কিছু কার্যকরী উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই সন্তানকে বোঝান যে আপনি তাদের বিরুদ্ধে নন, বরং তাদের ভালোর জন্যই চিন্তিত। খেলার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করুন। অতিরিক্ত গেমিংয়ের ফলে পড়াশোনা বা খেলাধুলায় কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা যুক্তি দিয়ে বোঝান।


গেমিংয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করুন। যেমন: দিনে ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা। এই সময়সীমা বাবা-মা এবং সন্তান উভয়েই মেনে চলার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে টাইমার ব্যবহার করুন। সন্তানকে এই নিয়ম মানতে উৎসাহিত করুন, এবং নিয়ম মানলে ছোটখাটো পুরস্কারের ব্যবস্থাও করতে পারেন।
ঘরের বাইরে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, বই পড়া, গান শেখা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে সন্তানকে উৎসাহিত করুন। নতুন নতুন শখ বা আগ্রহের বিষয় খুঁজে পেতে সাহায্য করুন। যখন তারা বিকল্প বিনোদন পাবে, তখন গেমিংয়ের প্রতি তাদের ঝোঁক naturally কমে আসবে।
সন্তানরা বাবা-মাকে অনুকরণ করে। যদি বাবা-মা সারাক্ষণ ফোন বা ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানও সেটাই শিখবে। তাই নিজেদের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সন্তানের সাথে কোয়ালিটি সময় কাটান, খেলাধুলা করুন বা গল্প করুন।
যদি দেখেন কোনোভাবেই সন্তানের গেমিং আসক্তি কমছে না এবং এর প্রভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনে খারাপভাবে পড়ছে, তাহলে দ্রুত চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সিলরের সাহায্য নিন। পেশাদাররা সঠিক পরামর্শ দিয়ে এই সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারেন।
মনে রাখবেন, অনলাইন গেমিং আসক্তি একটি গুরুতর সমস্যা, যা ধৈর্য ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। বকাঝকা বা শাস্তির বদলে ভালোবাসা ও বোঝানোর মাধ্যমে এই অভ্যাস বদলানো অনেক বেশি কার্যকর।

