উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের (Galwan Valley Clash) মাত্র কয়েকদিন পরেই নাকি গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল বেজিং! সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন বিদেশ দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস ডিন্যানো (Thomas DiNanno)। আমেরিকার (US) এই ‘বোমা’ ফাটানো তথ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের ২২ জুন—অর্থাৎ গালওয়ান সংঘর্ষের ঠিক সাতদিন পরেই চিন একটি গোপন পরমাণু পরীক্ষা চালায় (China Secret Nuclear Test)। জিনজিয়াং প্রদেশের ‘লোপ নুর’ সাইটে এই পরীক্ষাটি করা হয়েছিল বলে অনুমান। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মহলের নজর এড়াতে চীন ‘ডিকাপলিং’ (Decoupling) নামক এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল। এই পদ্ধতিতে মাটির নিচে একটি বিশাল গহ্বর তৈরি করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে ভূকম্পন তরঙ্গ বাইরের যন্ত্রে ধরা না পড়ে।
যদিও এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেনি চিন। তাদের রাষ্ট্রদূত শেন জিয়ান পালটা আমেরিকাকেই অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য দায়ী করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, পারমাণবিক বিষয়ে সবসময় দায়িত্বশীলভাবেই কাজ করেছে বেজিং। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মনিটর (CTBTO) জানিয়েছে, তাদের সিস্টেমে সে সময় কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবি ভারত-চিনের সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গালওয়ান ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা সরব, তখন আমেরিকার এই তথ্য নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল।

