উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সাধারণ মেয়েরা যেখানে গ্ল্যামার বা কর্পোরেট কেরিয়ারের স্বপ্ন দেখেন, সেখানে চিনের এক তরুণী বেছে নিয়েছেন এক শিহরণ জাগানো পথ। গুয়াংসি প্রদেশের বছর ২৯-এর তরুণী কিন (Qin) নিজের খামারে ৬০,০০০-এরও বেশি বিষধর সাপ পালন করে (Snake Venom) বছরে কোটি টাকা আয় করছেন।
১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর দু-বছর সাধারণ চাকরি করেছিলেন। কিন্তু বাবার সাপ প্রজনন কেন্দ্রে লোকবল কম থাকায় তিনি শহর ছেড়ে খামারে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। যা শুরুতে ছিল কেবল বাবাকে সাহায্য করা, আজ তা এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।


কিনের খামারে রয়েছে মারাত্মক বিষধর সব সরীসৃপ:
- ৫০,০০০-এর বেশি ‘ফাইভ-স্টেপ’ স্নেক (Pit Viper): এই সাপের বিষ এতটাই তীব্র যে স্থানীয়দের বিশ্বাস, কামড়ানোর পর মাত্র পাঁচ কদম চলার আগেই মৃত্যু হতে পারে।
- ১০,০০০-এর বেশি কোবরা (Cobra): যা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিষধর।
কিন জানিয়েছেন, এই ব্যবসা মোটেও সহজ নয়। বিশেষ করে ‘ফাইভ-স্টেপ’ সাপদের জোর করে খাবার খাওয়াতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও লাভের পরিমাণ তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো:
- বিষের দাম: গুণমান অনুযায়ী প্রতি গ্রাম বিষের দাম ৪০ থেকে ২০০ ইউয়ান। মাসে দুবার বিষ সংগ্রহ করা যায়।
- সাপের মাংস: প্রতিটি সাপে ২০০ থেকে ৩০০ ইউয়ান আয় হয়, বড় সাপের ক্ষেত্রে তা ১০০০ ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়।
- বার্ষিক আয়: শ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে কিনের বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ ইউয়ানেরও বেশি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি)।
অনলাইনে কিন ‘The Girl Who Collects Snake Venom’ নামে পরিচিত। সেখানে ২২ হাজারেরও বেশি অনুরাগী তাঁর কাজ দেখেন। তবে সাহসিকতার পাশাপাশি তিনি সাবধানবাণীও শুনিয়েছেন। কিনের কথায়: “যারা বলে সাপের কামড় খেতে ভয় পায় না, তারা আসলে কোনোদিন কামড় খায়নি। ফাইভ-স্টেপ সাপের কামড় যে যন্ত্রণাদায়ক, তা সারা জীবন মনে থাকে। মনে হতে পারে হাতে কামড় লেগেছে, কিন্তু সেই অসহ্য যন্ত্রণা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।” এই খামার থেকে উৎপাদিত বিষ, পিত্তথলি এবং সাপের তেল মূলত চিনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে সরবরাহ করা হয়।

