উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে যে শারীরিক অক্ষমতা হার মানতে বাধ্য, তার এক জীবন্ত উদাহরণ তৈরি করলেন ৮১ বছর বয়সী চীনা বৃদ্ধা ওয়াং ইউশি (Wang Yushi)। জন্ম থেকেই তাঁর দু’টি হাত বা পা নেই। কিন্তু এই প্রতিকূলতা তাঁকে হার মানাতে পারেনি। একাই তিন সন্তানকে বড় করে তোলা থেকে শুরু করে ঘরের সমস্ত কাজ সামলে তিনি আজ নেটদুনিয়ায় “চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী মা” (the strongest Chinese mother) হিসেবে পরিচিত।
উত্তর চীনের গানসু প্রদেশের বাইয়িন (Baiyin) শহরের বাসিন্দা ওয়াং-এর জীবন শুরু হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তায়। জন্মগতভাবেই তাঁর হাত-পা ছিল না। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, ২০ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর কোনো সরকারি নামও ছিল না। ২৭ বছর বয়সে একজন নিবন্ধন কর্মকর্তা তাঁকে ‘ওয়াং ইউশি’ নামটি দেন।


বিয়ের পর ওয়াং এক মেয়ে ও দুই ছেলের জন্ম দেন। কৃষিনির্ভর এলাকায় সংসার চালানোর জন্য তাঁর স্বামীকে প্রায়ই বাইরে থাকতে হতো। ফলে সন্তানদের লালন-পালন এবং সংসারের যাবতীয় বোঝা এসে পড়ে ওয়াং-এর কাঁধেই।
তাঁর ছোট ছেলে ঝাং লিহু (৩৮) জানান, তাঁর মা অবিশ্বাস্যভাবে সব কাজ করতে পারতেন। হাত-পা না থাকলেও তিনি যা যা করতেন তা অবাক করার মতো:
- রান্না: টুলে বসে নিজের শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে আটা মাখা এবং সবজি কাটার কাজ করতেন তিনি।
- সেলাই: নিজের মুখ ব্যবহার করে সুঁই দিয়ে নিখুঁতভাবে জামাকাপড় সেলাই করতেন।
- খাবার: কনুইয়ের ভাঁজে চপস্টিক ধরে অত্যন্ত সাবলীলভাবে খাবার খেতেন তিনি।
পুরানো দিনের কথা স্মরণ করে ওয়াং আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “সে সময় জীবন খুব কঠিন ছিল। কিন্তু আমি খুশি যে আমার সন্তানদের কখনো না খেয়ে থাকতে হয়নি। অভাবের সংসারেও আমি একা ওদের আগলে রেখেছি।”
বর্তমানে ওয়াং-এর তিন সন্তানই প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁদের নিজস্ব পরিবার রয়েছে। ১০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর এখন তিনি ছোট ছেলের পরিবারের সঙ্গে থাকেন। বয়সজনিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও, এই ৮১ বছর বয়সেও তাঁর মানসিক জোর অটুট। তাঁর এই হার না মানা লড়াইয়ের গল্প চীনের এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।

